
দক্ষিণ ভারতের উপকূলজুড়ে রবিবার সকাল থেকে প্রকৃতির তাণ্ডব। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’ স্থির গতিতে এগিয়ে চলেছে তামিলনাড়ু–পুদুচেরির উপকূলের দিকে। এর প্রভাবে শুক্রবার রাত থেকেই চেন্নাই, পুদুচেরি, নাগপট্টিনম-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দফায় দফায় ভারী বর্ষণ। বৃষ্টির ধাক্কায় বিমান, ট্রেন, সড়ক; সব ক্ষেত্রেই ব্যাঘাত, জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত।
আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি এখনও নাগপট্টিনম জেলার ভেদারনিয়ম উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। শ্রীলঙ্কায় তাণ্ডব চালিয়ে দুর্বল হলেও প্রবল বৃষ্টির দাপটে বিস্তীর্ণ উপকূল অঞ্চল জলমগ্ন। রামনাথপুরম ও নাগপট্টিনম জেলার বহু এলাকায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন। এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ-এর একাধিক দল প্রস্তুত। কয়েকটি উপকূল জেলা লাল সতর্কতায়।
আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা ‘দিতওয়া’ উত্তরদিকে অগ্রসর হলেও উপকূলের সমান্তরাল রেখেই চলবে। রবিবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে আসতে পারে। সন্ধ্যার দিকে দূরত্ব কমে ২৫ কিলোমিটারেরও কম হওয়ার আশঙ্কা।
সমুদ্র অশান্ত। মান্ডপাম উপকূলে ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙেছে কয়েকটি যান্ত্রিক নৌকা। ভেদারনিয়মে টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন নোনাজল চাষের খেত; প্রায় ৯,০০০ একর লবণ উৎপাদন ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত।
কুড্ডালোর, নাগপট্টিনম, ময়িলাদুথুরাই, ভিল্লুপুরম, চেঙ্গলপট্টু, পুদুচেরি–কারাইকেল; এই সব জেলাকে লাল সতর্কতায় রেখেছে আবহাওয়া দফতর। চেন্নাই, কাঞ্চিপুরম, তিরুভল্লুর-সহ একাধিক জেলা কমলা সতর্কতায়। ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিমি বেগে দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস। ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে বাতাসের গতি কিছুটা কমবে।
রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণে যুদ্ধকালীন তৎপরতা। ২৮টি বিপর্যয় মোকাবিলা দল প্রস্তুত, আরও ১০টি দল আকাশপথে আনার পরিকল্পনা। প্রায় ৬,০০০ ত্রাণশিবির তৈরি। এখনও প্রাণহানি না হলেও গবাদিপশু ও ঝুপড়িঘর ক্ষয়ের খবর এসেছে।
চেন্নাই বিমানবন্দর জানিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার জন্য ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল। ট্রেন পরিষেবা আংশিক ব্যাহত। পাম্বান ব্রিজে বাতাসের গতি কমায় রামেশ্বরমগামী ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক হচ্ছে।
চেম্বারামবাক্কম ও পুন্ডি জলাধার থেকে বাড়তি জল ছাড়া হচ্ছে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে। ধনুষ্কোডিতে পর্যটকে নিষেধাজ্ঞা জারি। ইয়েমেন প্রস্তাবিত ‘দিতওয়া’ নামটির অর্থ লেগুন; সোকোত্রা দ্বীপের ‘ডিটওয়া লেগুন’ থেকে নামের উৎপত্তি।
ঘূর্ণিঝড় কতটা তাণ্ডব চালাবে তা সময় বলবে, কিন্তু দক্ষিণ ভারতের উপকূলে প্রকৃতি ইতিমধ্যেই যুদ্ধের পূর্বাভাস শুনিয়ে দিয়েছে।