
ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (DAC) বৈঠকে ১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে প্রাথমিক অনুমোদন মিলেছে। এর ফলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) আধুনিকীকরণ পরিকল্পনায় বড়সড় গতি এল।
ডিএসি কী এবং তাদের ভূমিকা
প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল বা ডিএসি হল দেশের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগ্রহণকারী সংস্থা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এর সভাপতি। নতুন অস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে ডিএসি প্রাথমিক অনুমোদন দেয়। এরপর নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCS) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
১১৪ রাফাল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে ৩৬টি রাফাল রয়েছে, যা ২০১৬ সালের চুক্তির আওতায় ফ্রান্স থেকে আনা হয়। কিন্তু আইএএফ-এর প্রয়োজন ৪২টি স্কোয়াড্রন, যেখানে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২৯টি। ফলে পুরনো মিগ-২১ ও অন্যান্য যুদ্ধবিমান ধাপে ধাপে সরিয়ে নতুন প্রজন্মের জেট অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
প্রস্তাবিত ১১৪টি রাফাল কেনার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। এই যুদ্ধবিমানগুলি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। আকাশ থেকে আকাশে ও আকাশ থেকে ভূমিতে হামলা, নজরদারি, এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র বহন, সব ক্ষেত্রেই রাফাল অত্যন্ত সক্ষম। মেটিওর ও স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রের মতো দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা এটিকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর
নতুন চুক্তির বড় দিক হল, বেশিরভাগ বিমানই ভারতে তৈরি হবে। ফরাসি সংস্থা ডাসল্ট অ্যাভিয়েশন ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে উৎপাদন করবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।
কৌশলগত গুরুত্ব
চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে আধুনিক যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। বালাকোট অভিযান ও লাদাখ পরিস্থিতিতে রাফাল র কার্যকারিতা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ভারত সফরের ঠিক আগে এই অনুমোদন পাওয়া কূটনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এরপর কী?
ডিএসি-র অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি যাবে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির (CCS) কাছে। সেখানে চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিললে ডাসল্টের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ১৮টি বিমান সরাসরি উড়ার উপযোগী অবস্থায় আসবে, বাকিগুলি ভারতে তৈরি হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৫ থেকে ৭ বছর সময় লাগতে পারে।
তবে বিপুল ব্যয়ের কারণে কিছু বিশেষজ্ঞের মত, দেশীয় তেজস এমকে-২ প্রকল্পে আরও জোর দেওয়া উচিত। তবু আইএএফ-এর তাৎক্ষণিক শক্তিবৃদ্ধির প্রয়োজন মেটাতে রাফাল কেনা বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।