
গত কয়েকবছর ধরে বারবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠতে দেখা গেছে জাতীয় রাজধানী দিল্লিকে। সোমবার রাতে কেঁপে উঠলো ফের একবার জাতীয় রাজধানী। এর আগে গত ২০ জুন কেঁপেছিল দিল্লি। সেবার রবিবার দুপুর ১২টা ২ মিনিটে পাঞ্জাবিবাগ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ২.১। হঠাৎ করেই কম্পন অনুভূত হতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীতে। আফটার শকের আতঙ্কে অনেকেই বাইরে বেরিয়ে আসেন। এদিন জাতীয় রাজধানী দিল্লি ও এনসিআর-এ আবারো কেঁপে উঠেছে। সোমবার রাতে ভূমিকম্পের হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছে। এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল হরিয়ানার ঝাজারে।
রবিবার রাত ১০টা ৩৬ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৭। রাতে হঠাৎ করেই ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দিল্লিবাসীর মধ্যে। এবারও আফটার শকের আশঙ্কায় বাইরে বেরিয়ে আসেন রাজধানীর মানুষ।
এদিনের ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে ছোটমাপের ভূমিকম্প হলেও অনেকেই কম্পন অনুভূত করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই কথাও শেয়ার করেছেন অনেকে। এর আগে একাধিকবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপেছে দেশের রাজধানী। সেই কারণেই কম্পন অনুভূত হতেই আতঙ্ক ছড়ায়।
গতকাল অর্থাত্ রবিবার গুজরাতের কচ্ছে মৃদু ভূমিকম্প হয়েছে। রিখটার স্কেল তীব্রতা ছিল ৩.৭। সাম্প্রতিক অতীতে বারবার ভূমিকম্পের কবলে পড়তে দেখা গেছে দিল্লিকে। জিওলজিস্টদের মতে বারবার ছোটখাট কম্পন আগামী দিনে বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত হতে পারে। অদূর ভবিষ্যতে বড়সড় কম্পনের কবলে দিল্লি ও তার আশপাশের অঞ্চল পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাঁচটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে দিল্লি চতুর্থ সর্বোচ্চ অঞ্চলের অধীনে পড়ে। যে কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। তবে, দিল্লি নিজে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল, এটা বিরল ঘটনা। উচ্চ-ভূমিকম্প অঞ্চল হিসাবে পরিচিত মধ্য এশিয়া বা হিমালয় অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানলে, তার প্রভাবে দিল্লিতে কম্পন অনুভূত হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতেই তাজকিস্তানে ভূমিকম্পের প্রভাবে ব্যাপক ভাবে কেঁপেছিল দেশের রাজধানী। তবে দিল্লির সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্র অনুভূত হয়েছিল ১৯৫৬ সালের অক্টোবরে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৭। অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের ১৫ অগাস্ট অনুভূক কম্পনের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫.৮। দুটি কম্পনেরই কেন্দ্রস্থল ছিল উত্তরপ্রদেশ।