
রাষ্ট্রপতি শাসনের ইতি পড়ল। অবশেষে নয়া মুখ্যমন্ত্রী পাচ্ছে মণিপুর। বুধবার সন্ধ্যাতেই মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন ইয়ুমনান খেমচাঁদ সিং। তাঁকে হিংসা কবলিত মণিপুরের BJP-র পরিষদীয় দলের নতুন নেতা বেছে নেওয়া হয়। তিনি এর আগে মণিপুরের বিধানসভার স্পিকার ছিল। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে BJP-তে যোগদান করার আগে ইয়ুমনান ছিলেন তৃণমূলের নেতা, এমনকী ভোটেও লড়েছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে মণিপুরে BJP-র সদর দফতরে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক চলে। উপস্থিত ছিলেন মণিপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তরুণ চুগ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বে থাকা সম্বিত পাত্র। সর্বসম্মতিক্রমে বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইয়ুমনান খেমচাঁদের নাম পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। স্থির হয়, তাঁকেই বসানো হবে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে।
কে এই ইয়ুমনান খেমচাঁদ?
পূর্বসূরি এন বীরেন সিংয়ের মতো এই ইয়ুমনান খেমচাঁদেরও রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে। তিনি প্রথমে ছিলেন মেইতেই জনগোষ্ঠীর দল ডেমোক্র্যাটিক রেভলিউশনারি পিপলস পার্টিতে। যদিও পরবর্তীতে এই দল কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। এন বীরেন সিংয়ের হাত ধরেই প্রথমে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন খেমচাঁদ।
তৃণমূল নেতা
২০১২ সালে ইয়ুমনান খেমচাঁদ যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। বর্তমানে তিনি মণিপুরের যে আসন থেকে বিধায়ক, সেই সিংজামেই থেকেই তৃণমূলের হয়ে ২০১২ সালে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন এই রাজনীতিবিদ। সিংজামেই কেন্দ্র থেকে সে বছর তিনি ৭ হাজার ৮১৮ ভোট পেয়েছিলেন। কংগ্রেসের ইরেহভাম হেমোচন্দ্র সিংয়ের কাছে পরাজিত হলেও ব্যবধান ছিল অনেকটাই কম। মাত্র ১৫৭ ভোটে হেরেছিলেন খেমচাঁদ। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪৮.৬৩ শতাংশ।
BJP-তে যোগ
তৃণমূল ঘুরে ২০১৩ সালে BJP-তে যোগ দিয়েছিলেন BJP-তে। ২০১৭ সালে BJP-র টিকিটে লড়ে খেমচাঁদ জিতেছিলেন। পেয়েছিলেন ৯ হাজার ৪৫৯ ভোট। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি জিতেছিলেন। প্রাপ্ত ভোট ছিলে ৮ হাজার ৭০৯।
মেইতেই এবং কুকিদের সংঘর্ষের জেরে মণিপুরে ২০২৩-এর মে মাস থেকে হিংসা শুরু হয়েছিল। তার প্রায় ২১ মাস পরে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি BJP সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দিয়েছিলেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছিল। BJP নেতারা অবশ্য রাষ্ট্রপতি শাসন মেয়াদ বাড়ানোর বিপক্ষে ছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হলেও মণিপুরের বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়নি। তা ‘সাসপেন্ডেড অ্যানিমেশন’-এ রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ প্রয়োজনে এই বিধানসভা জিইয়ে ফের সরকার গঠন করা যায়। NDA-এর মেইতেই বিধায়করা রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার করে নির্বাচিত সরকার গঠনের দাবি তুলেছেন। কিন্তু প্রকাশ্যেই তার বিরোধিতা করেছেন কুকিরা। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাসনের ইতি টেনে মণিপুরে বিধানসভার পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।