
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে কমন সাইবার স্ক্যাম এটি। সেলিব্রিটি এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অনলাইন 'ছদ্মবেশ' ধরে জালিয়াতি করা হচ্ছে। এবার তাতে বাদ গেল না রাষ্ট্রপতির প্রোফাইলও।রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর নাম দিয়ে ফেক প্রোফাইল খুলে সাইবার প্রতারণার খবর মিলল ঝাড়খণ্ডে।
সম্প্রতি, ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগের বাসিন্দা ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্টু সোনি একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পান। তাতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ছবি ছিল। অন্য সমস্ত তথ্যও একেবারে সেই অনুযায়ী দেওয়া। যেন রাষ্ট্রপতিরই ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট। এমনিতেই এটা দেখে একটু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ওয়াকিবহাল কেউ ধরেই ফেলবেন। কিন্তু মন্টু একটু প্রতারককে ঘেঁঁটে দেওয়ার প্ল্যান করেন।
এই ফেক 'প্রেসিডেন্ট' মন্টুকে টেক্সট করেন, 'জয় হিন্দ, কেমন আছেন?' পরে আবার টুকটাক কথাবার্তার পর প্রতারক মেসেজে জানায়, 'আমি খুব কমই ফেসবুক ব্যবহার করি, আমাকে আপনার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর পাঠান।'
মন্টু তাঁর নম্বর দিয়েও দেন। কয়েক ঘণ্টা পর ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটি মেসেজ আসে, 'আমরা আপনার নম্বরটি সেভ করেছি এবং আপনাকে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ কোড পাঠিয়েছি। এটা আপনার হোয়াটসঅ্যাপে চলে গিয়েছে। দয়া করে আমাদের দ্রুত কোডটি পাঠান; এটি একটি ৬ সংখ্যার কোড।'
এরপরেই অবশ্য পুরোটা বুঝে যান মন্টু। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করতে কোড লাগবে কেন?
মন্টু এক্স হ্যান্ডেলে পুরো বিষয়টি শেয়ার করেন। রাষ্ট্রপতি ভবন, ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং অন্যদের ট্যাগ করেছেন।
রাঁচি পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নজরে আনে। ফেসবুক পোস্টের বিস্তারিত তথ্য জানতে চায়।
বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
রাঁচির এসএসপি চন্দন সিনহা ইন্ডিয়া টুডেকে জানান, তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করছেন। তিনি আরও বলেন, 'আমরা তদন্তকারী সংস্থাদের মামলার সমস্ত বিবরণ এবং তথ্য় যাচাই করতে বলেছি।'