
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ভারত এই বছর প্রথমবারের মতো গ্লোবাল বিগ ক্যাট সামিট আয়োজন করতে চলেছে। এই সম্মেলনে বিশ্বের ৯৫টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও মন্ত্রীরা অংশ নেবেন বলে রবিবার সংসদে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।
লোকসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, বৃহৎ বিড়াল প্রজাতির সুরক্ষায় বিশ্বব্যাপী সমন্বিত কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই শীর্ষ সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।
সীতারমন জানান, বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ, তুষার চিতা, চিতা ও জাগুয়ার, এই বৃহৎ বিড়াল প্রজাতিগুলির আবাসস্থল দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গত বছর আন্তর্জাতিক বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স গঠন করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতেই এই সম্মেলনের আয়োজন।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বন্য বাঘের আবাসস্থল ভারত। প্রজেক্ট টাইগার, চিতা পুনঃপ্রবর্তন-সহ একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে বৃহৎ বিড়াল সংরক্ষণে ভারত ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। গ্লোবাল বিগ ক্যাট সামিট আয়োজনের ঘোষণাও সেই নেতৃত্বেরই সম্প্রসারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইকো-ট্যুরিজম ও সংরক্ষণে বাজেটের জোর
বাজেটে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটনকে একসূত্রে বাঁধার একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, জম্মু ও কাশ্মীর, পূর্বঘাট পর্বতমালার আরাকু উপত্যকা এবং পশ্চিমঘাট এলাকায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পাহাড়ি পথ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, ওড়িশা, কর্ণাটক ও কেরালায় কচ্ছপের বাসা বাঁধার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলি সংরক্ষণ-সংযুক্ত ইকো-ট্যুরিজম করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংস্কারের বার্তা অর্থমন্ত্রীর
লোকসভায় টানা নবমবার কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করে নির্মলা সীতারমন বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্ন ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সরকার “বাক্যবাদের বদলে সংস্কার এবং জনপ্রিয়তার বদলে জনগণকে” অগ্রাধিকার দিয়েছে।