
প্রতি বছরই গ্রীষ্মকালে খরার দাপট দেখা যায় উত্তর ভারত ও পশ্চিম ভারত জুড়ে। যদিও মাত্র বছর ৩০-৪০ আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। রিপোর্ট বলছে, ২০০৯ সাল থেকে গাঙ্গেয় সমভূমির কিছু অংশ প্রধান খরাপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ছয়টি প্রধান অঞ্চলে খরা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম ও মধ্য ভারত, হিমালয়, গাঙ্গেয় সমভূমি, উপদ্বীপীয় ভারত এবং উত্তর-পূর্ব ভারত। দুর্বল মৌসুমী বায়ু এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হচ্ছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে নদী থেকে বাষ্পীভবন বাড়ছে। দিন ও রাত উভয় সময়েই তাপমাত্রা বাড়ছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং জল-নির্ভর ফসলের চাষ জল সঙ্কটকে আরও তীব্র করে তুলছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে একসময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হতো, কিন্তু এখন দুর্বল মৌসুমী বায়ু এবং তাপপ্রবাহ সেখানেও জল সঙ্কট তৈরি করেছে।
গঙ্গা অববাহিকা এলাকায় তীব্র খরা
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে গঙ্গা অববাহিকা গত ১,৩০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র খরার সম্মুখীন হয়েছে। এই খরা ষোড়শ শতাব্দীর খরার চেয়েও ৭৬% বেশি । অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই খরা শুধুমাত্র প্রাকৃতিক কারণে হচ্ছে এমন নয়, বরং এটি মানুষের বহু অবিবেচকের মতো কর্মকাণ্ডের ফল।
জলের অভাব
রাষ্ট্র সংঘের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, জল এখন জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। এর যথাযথ ব্যবস্থা না করা হলে, দেশগুলোর মধ্যে জল নিয়ে সংঘাত দেখা দিতে পারে।
সমাধানগুলো কী কী?
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, খরা মোকাবিলায় শুধু নতুন প্রযুক্তিই যথেষ্ট নয়। ড্রিপ সেচ, সৌর পাম্প, জল পরিশোধন ও পুনঃব্যবহার এবং লবণাক্ত জল পরিশোধন কেন্দ্র এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু প্রতিটি সমাধানেরই ঝুঁকি রয়েছে। বেশি জল প্রয়োজন হয় এমন ফসল চাষ করলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর আরও কমে যেতে পারে।
গঙ্গা অববাহিকায় তীব্র খরা
ইজরায়েল ও ক্যালিফোর্নিয়ার উদাহরণ থেকে এক্ষেত্রে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে। খরা দেখা যাওয়ায় উভয় দেশই নিজেদের অর্থনীতিকে জলের উপর কম নির্ভরশীল করে তুলেছে। ইজরায়েল কৃষির পাশাপাশি সার্ভিস ও শিল্প খাতকে শক্তিশালী করেছে। ২০১৪ সালের খরায় ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, কারণ কৃষিক্ষেত্রে জলের ব্যবহার ছিল সামান্য।
এখন কী করণীয়?
ভারতের মোট জল ব্যবহারের ৮৫ শতাংশই কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তাই, সর্বপ্রথম কৃষিপদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। যথেচ্ছ পরিমাণে ভূগর্ভস্থ জল তোলা বন্ধ করতে হবে। এখনও এই বিষয়ে আইন রয়েছে, কিন্ত তা কতদূর প্রয়োগ হচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রচার আরও জোরদার করতে হবে।