
আর্থিক ভাবে রাজ্যকে আরও চাঙ্গা করতে বড় পদক্ষেপ নিল হিমাচলপ্রদেশের সরকার। গাড়ির জন্য এন্ট্রি ফি বাড়িয়ে দিল মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুর নেতৃত্বাধীন সরকার। তবে শুধুমাত্র ভিন রাজ্যের গাড়ির জন্যই এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। হিমাচলের রেজিস্ট্রেশন থাকা গাড়ির জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে না। এই নয়া সিদ্ধান্ত ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
একাধিক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, হিমাচল সরকার নতুন টোল পলিসি ২০২৬-২৭ চালু করেছে। সেই পলিসি অনুযায়ী বাইরের রাজ্যের ক্ষেত্রে টোল ট্যাক্স প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরফলে যে ব্যক্তিরা নিজস্ব যানবাহন বা বাণিজ্যিক গাড়ি নিয়ে হিমাচল প্রদেশে ঢুকতে চলেছেন তাঁদের জন্য খরচ বাড়তে চলেছে। এর ফলে পর্যটক এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডগুলি সরাসরি প্রাভাবিত হবে বলেই উল্লেখ করা হয়েছে।
কত টাকা এন্ট্রি ফি বাড়ানো হয়েছে?
নতুন রেট অনুসারে, বাইরের রাজ্য থেকে আসা রেগুলার গাড়িগুলিকে এখন এন্ট্রি ফি দিতে হবে ১৭০ টাকা। আগে এই অঙ্ক ছিল ৭০ টাকা। অর্থাৎ আড়াই গুণ বেড়েছে টাকার পরিমাণ। ১২+১ সিটার গাড়িগুলিতে আগে ১১০ টাকা নেওয়া হত; সেখানে এখন থেকে ১৭০ টাকা নেওয়া হবে। ভারী যানবাহনের উপরও করের বোঝা বেড়েছে। এন্ট্রি ফি আগে যেখানে ছিল ৭২০ টাকা। তা এখন বেড়ে হবে ৯০০ টাকা। এছাড়াও নির্মাণ যন্ত্রপাতি, যেমন জেসিবি এবং অন্যান্য ভারী গাড়ির জন্য আগে যেখানে ৫৭০ নেওয়া হত, তা বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হয়েছে। ট্রাক্টরের জন্য এন্ট্রি ফি ৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। ডাবল-অ্যাক্সেল বাস এবং ট্রাকের জন্য ৫৭০ টাকার রেট অবশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। এই বিভাগে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। সরকারের যুক্তি হল, বিভিন্ন যানবাহনের শ্রেণির প্রকৃতি এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫৫টি এন্ট্রিতে বাড়ছে ভাড়া
হিমাচলে প্রবেশের ক্ষেত্রে মোট ৫৫টি এন্ট্রি পয়েন্ট রয়েছে। যেখান দিয়ে বাইরের রাজ্য থেকে আসা বিভিন্ন গাড়িগুলি হিমাচল প্রদেশে ঢোকে। প্রধান রুটগুলি হল সিরমৌরের গোবিন্দঘাট, নুরপুরের কান্দওয়াল, উনার মেহতপুর, বাদ্দি, পারওয়ানু এবং বিলাসপুর জেলার গারামোদার কাছে। ১ এপ্রিল থেকে এই সমস্ত টোলগুলিতে নতুন রেট কার্যকর করা হবে। টোল আদায়ে স্বচ্ছতা ও গতি আনতে সরকার এই এন্ট্রি পয়েন্টগুলিতে FASTag সিস্টেম বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই এন্ট্রিপয়েন্টগুলি নিলাম করার জন্য DC-র নেতৃত্বে নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে আবগারি ও কর বিভাগের আধিকারিকরাও থাকবেন।
পর্যটনের উপর প্রভাব
হিমাচল প্রদেশকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক তাদের ব্যক্তিগত গাড়িতে এখানে আসেন। তাই, এন্ট্রি ফি বৃদ্ধি পর্যটন খাতের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। আধিকারিকদের দাবি, ১৭০ টাকা ফি খুব বেশি নয়। তবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অন্য ব্যয়ের মধ্যে এটি অবশ্যই একটি অতিরিক্ত বোঝা। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দাবি করছেন, এক্ষেত্রে সরকারের ব্যালেন্সিং সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যদি পর্যটকদের আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পায়, তাহলে তাঁরা প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে চলে যেতে পারেন। যদিও এই বৃদ্ধি পর্যটনের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে তা বলা এখনও সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।