
ট্যারিফ নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে। এই পরিস্থিতিতে এদেশে আসতে পারেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প। জানালেন ভারতে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। দুই দেশের মধ্য়ে একাধিক বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, একথা স্বীকার করে নিয়েই গোর জানান, আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
গোর জানান, ভারত ও আমেরিকা কেবল বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বন্ধু নয়। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা দীর্ঘকাল ধরেই মজবুত। তারপরই তাঁর সংযোজন, 'প্রকৃত বন্ধুদের মধ্যেও মতবিরোধ হতেই পারে। তবে তারা সব সময় বাধা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। সেটাই মঙ্গলজনক।'
গোর জানান, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক বিষয়ে আলোচনা হবে আগামিকাল। সেখানে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ভারত আগামী মাসে প্যাক্সসিলিকা অধিবেশনে পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেবে। এর ফলে বাণিজ্যের পাশাপাশি, নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, জ্বালানি এবং স্বাস্থ্যের মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। ওই রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প মোদীকে তাঁর বিশেষ বন্ধু বলেও উল্লেখ করেছেন।
প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক তেমন ভালো নয়। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনিই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত থামিয়েছেন ও মধ্যস্থতা করেছেন। যদিও ভারতের তরফ থেকে তার বিরোধিতা করা হয়। জানানো হয়, কোনও বৈদেশিক শক্তির হস্তক্ষেপ এক্ষেত্রে ছিল না। তারপর বাণিজ্যিক বোঝাপড়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে বসেন, ভারতের সঙ্গে তাঁদের দেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এরপরই তিনি ভারতের উপর ২৫ শতাংশ ট্য়ারিফ চাপিয়ে দেন। পরে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে জরিমানা বাবদ আরও ২৫ শতাংশ ট্যারিফ বসান। বর্তমানে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ ট্যারিফ কার্যকর রয়েছে।
যদিও ট্রাম্প কবে আসবেন তা জানানো হয়নি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের তরফে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সেই সময় ট্রাম্প এলে ট্যারিফ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। যদিও এর আগেও দুই দেশের প্রতিনিধিরা একাধিকবার এই নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে কেউ নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।