
India Bangladesh Water Treaty: গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষের বছরে পা দিতেই যৌথ জলমাপ শুরু করল ভারত ও বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার থেকে পদ্মা ও গঙ্গা নদীতে নির্ধারিত পয়েন্টে একযোগে জলস্তর মাপা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছরের গঙ্গা জলচুক্তি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই নিয়ম মেনেই শুরু হল এই গুরুত্বপূর্ণ মাপজোখ পর্ব।
বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের প্রায় ৩,৫০০ ফুট উজানে জলমাপ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা পয়েন্টেও চলছে মাপজোখ। ধাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের জলসম্পদ দপ্তরের আধিকারিকরাই এই যৌথ প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন।
ভারতের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের (CWC) ডেপুটি ডিরেক্টর সৌরভ কুমারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পৌঁছেছে। ওই দলে রয়েছেন কমিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর সানি অরোরা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জল উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্ব মাপজোখ হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার আরিফিন জুবায়েরের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল ভারতে গিয়েছে যৌথ জলমাপে অংশ নিতে।
বাংলাদেশের পাবনার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার শিব্বের হোসেন জানিয়েছেন, “বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগেই জলসম্পদ মন্ত্রক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে চিঠি দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।”
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত গঙ্গা ও পদ্মার বিভিন্ন নির্ধারিত পয়েন্টে জলস্তর মাপা হয়। প্রতি ১০ দিন অন্তর এই মাপজোখের তথ্য নথিভুক্ত করা হবে। দুই দেশের মধ্যে স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতেই এই প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর এক বছরও বাকি নেই। ইতিমধ্যেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি নবীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যৌথ জলমাপ আগামী দিনের আলোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।