
চিকেন'স নেক নিয়ে চলতি বছরেই বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান। বিষয়টিকে নয়াদিল্লি যে মোটেই হালকা ভাবে নেয়নি তা প্রমাণ করল ভারতীয় সেনা। চিকেন নেক সংলগ্ন এলাকায় তৈরি করা হয়েছে তিন-তিনটি সামরিক ঘাঁটি। যা ভারতের কাছে কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, বাংলাদেশের একাবারে ঘাড়ের কাছেও নিঃশ্বাস ফেলার মতো।
চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডর ভারতের জন্য ভৌগলিক ও কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২২ কিমি দৈর্ঘ্যের এই এলাকাটি উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যেকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে। ফলে এই এলাকায় তিনটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল ভারত। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলিকেও জোরালো বার্তা দিল নয়াদিল্লি।
কোথায় কোথায় মিলিটারি বেস তৈরি করা হয়েছে?
এরাজ্যের উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া, অসমের ধুবড়ি এবং বিহারের কিষানগঞ্জ- এই তিনটি জায়গায় নতুন ব্যাটেলিয়ান অফিস বা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এক একটি ঘাঁটিতে ৮০০ থেকে ৯০০ জন জওয়ান থাকবেন বলে সূত্রের খবর। উল্লেখ্য, চিকেন নেক করিডর থেকে ধুবড়ির দূরত্ব ২২২-২৪০ কিলোমিটার, চোপড়া থেকে দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার, কিষাণগঞ্জ থেকে দূরত্ব ১৫২-১৮০ কিলোমিটারের মধ্যে। জানা গিয়েছে, এই মিলিটারি বেসে প্যারা স্পেশাল ফোর্স, গোয়েন্দা ইউনিট ও RDF বাহিনী মোতায়েন করছে সেনা। ফলে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা যে কার্যত অভেদ্য হয়ে উঠল তা বলার অপেক্ষা নেই।
বাংলাদেশে পালাবদলের পর বড় পদক্ষেপ নিল ভারত
বিশেষ বিষয় হল বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ঢাকা ক্রমেই পাকিস্তান ও চিনের দিকে 'দোস্তি'-র হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে বারেবারেই মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান মহম্মদ ইউনুস। তারপরেই চিকেনস নেক-এ তিনটি মিলিটারি বেস গঠন করে বাংলাদেশকে ভারত কূটনৈতিক বার্তা দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।