
ইরান যুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপদে পড়েছে ভারত। দেশের অন্দরে জ্বালানির সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তাই বাড়তি দাম দিয়েই একাধিক দেশ থেকে কিনতে হচ্ছে তেল। যদিও এমন পরিস্থিতিতে দেশে তেলের আমদানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র আনতে চাইছে ভারত। তারা ইরান এবং রাশিয়ার তেলের পাশাপাশি অন্যান্য একাধিক দেশ থেকে জ্বালানি কিনতে চাইছে। আর সেই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হল ভেনেজুয়েলা। এই দেশ থেকেও প্রচুর তেল আসছে ভারতে।
কমোডিটি অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেকলারের দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ভারতে আসতে চলেছে। চলতি মাসেই এই পরিমাণ তেল ভারতের বন্দরে এসে উপস্থিত হবে। প্রায় ১ বছর পর এই দেশ থেকে আবার তেল আসতে চলেছে।
বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, এখন থেকে কোনও এক বা দু'টি দেশের থেকে তেল কিনতে চাইছে না ভারত। বরং নিজেদের তেল আমদানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করছে। তাই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা শুরু করল ভারত।
এই রিপোর্ট অনুযায়ী, এপ্রিল শেষের আগেই দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশ থেকে তেল আসবে ভারতে। এর মাধ্যমেই দেশে জ্বালানি সমস্যা মেটাতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
যদিও এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলে রাখি, আগেও ভেনেজুয়েলার থেকে তেল কিনেছে ভারত। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার আগে সেই দেশে প্রায় বছরে ১.৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কেনা হতো।
ভেনেজুয়েলা অনেক ভাল বিকল্প
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনে ভালই চাল দিয়েছে ভারত। বিশেষত, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার পর এই দেশের থেকে তেল আমদানি করলে ভারতের লাভই হবে। এর থেকে দেশে তেলের সংঙ্কট দূর করা যাবে।
সারা পৃথিবী থেকেই তেল আসছে
মাথায় রাখতে হবে, এখন ভেনেজুয়েলা কন্ট্রোল করে আমেরিকা। তাই মার্কিন দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে ভারতের অয়েল রিফাইনারিগুলি। তারপরই ওই দেশ থেকে ভারতে আসছে তেল।
এর পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় রাশিয়া থেকেও তেল কেনার কাজ চলছে। পাশাপাশি আফ্রিকার নানা দেশও তেল কিনছে।
ভেনেজুয়েলার তেল কেন বিশেষ?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিশ্বের সবথেকে বড় তেলের রিজার্ভ রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। তবে এই তেল রিফাইন করা বেশ কঠিন। এটি অত্যন্ত অশুদ্ধ তেল। তাই এটা রিফাইন করতে অনেকটা সময় চলে যায়। কিন্তু এখন কোনও বিকল্প না থাকায় ভেনেজুয়েলা থেকেই ভারতকে তেল কিনতে হচ্ছে।