
India Crude Oil Purchase Policy: ভারত সরকারের পরিষ্কার অবস্থান, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও বাজার পরিস্থিতি মাথায় রেখে সবচেয়ে সস্তা ও সঠিক মানের ক্রুড অয়েল কেনা হবে, এমনটাই জানিয়েছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্র। এই অবস্থান নিয়েছে এমন এক পরিবেশে যেখানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল, চাপ রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক আলোচনা এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি সম্পর্কে নানা দাবি ওঠার পরেও।
মিশ্র ও সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি সিদ্ধান্তগুলো একক উৎসের উপর নির্ভর করবে না। তা কেনা হবে দাম, সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা ও প্রাপ্যতা বিবেচনায় নিয়ে। এ খাতের মূল আলোচনায় রয়েছে সরবরাহ নিরাপত্তা, ভোক্তা স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্ত করে রাখা, যাতে কোনও এক সরবরাহ বন্ধ হলে বাজার স্থিতিশীল থাকে।
ভারতের শক্তি চাহিদার একটি বড় অংশই বিদেশ থেকে আসে, এবং দেশটি ইতিমধ্যেই ডজনো পরিবেশক থেকে তেল আমদানি করছে। মিশ্রের ভাষ্য, “জাতীয় স্বার্থ সবসময় আমাদের সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান চালিকা শক্তি হবে”, এবং আমদানিতে কোন এক দেশে নির্ভর করে দেশকে বিপজ্জনক অবস্থায় ফেলে দেওয়া ঠিক হবে না।
এখানে আরও বলা হয়েছে, সরকার বা ব্যবসা, শেষ পর্যন্ত বাজারের শর্ত, সহজলভ্যতা, খরচ ও ঝুঁকি দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তাই রাশিয়া সহ অন্যান্য ঐতিহ্যগত উৎসের পাশাপাশি বার্তা পৌঁছেছে যে প্রচুর দেশ থেকে তেল সংগ্রহের মাধ্যমে শক্তি নিরাপত্তা ও সরবরাহের স্থায়িত্ব বজায় রাখা হবে।
বিশ্লেষকের মতে, এই নীতি দেশের জ্বালানি বিলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপ থেকে নিজস্ব নীতি বজায় রাখার ক্ষমতাও দেবে। জনসাধারণের দামের দিকেও সরকারের লক্ষ্য, যাতে জ্বালানির দাম ও দ্রব্য মূল্য স্থিতিশীল থাকে এবং সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা না পড়ে।
এছাড়া হিসাব অনুসারে বিশ্বজুড়ে তেল মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে, তাই এই নীতিটি স্থায়ীভাবে নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই নীতি উপযোগী হলে আমদানি বিলও নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় স্থায়িত্ব আসবে।
সরকারের এই পজিশনের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতে তেলের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এবং দেশটি জ্বালানি নিরাপত্তা ও খরচ-সাশ্রয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে সক্ষম হবে।