
Govt Allows Kerosene Sale At Petrol Pumps 2026: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি (LPG) সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় এবার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আগামী ৬০ দিনের জন্য কেরোসিন বিক্রির নিয়মে বড়সড় ছাড় দেওয়া হলো। এখন থেকে সাধারণ গ্রাহকরা সরাসরি পেট্রোল পাম্প থেকেই কেরোসিন সংগ্রহ করতে পারবেন। ২০২৬-এর এই সংকটকালে দাঁড়িয়ে নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। বিড়লা-রাজের আভিজাত্য যেমন স্থিরতা ও আস্থায় টেকে, এই জরুরি সিদ্ধান্তও ঠিক তেমনই আমজনতার মনে ভরসা জোগাবে।
এতদিন পর্যন্ত কেরোসিন মূলত রেশনের মাধ্যমেই বণ্টন করা হতো। কিন্তু ইরান-আমেরিকা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জেরে যেভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অশনি সংকেত দেখা দিচ্ছে, তাতে বিকল্প জ্বালানির জোগান বজায় রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আপৎকালীন ভিত্তিতে আগামী দুই মাস পেট্রোল পাম্পগুলিতে কেরোসিন মজুত ও বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ী এবং গ্রামীণ এলাকার মানুষ, যারা রান্নার জন্য কেরোসিনের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই নিয়ম শিথিল করা হলো। ২০২৬-এর এই উত্তাল সময়ে দাঁড়িয়ে চৈত্র শেষের তপ্ত দিনে এটি সাধারণ মানুষের জন্য এক বড়সড় স্বস্তির খবর।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক হলেও পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ওমান ও হর্মুজ প্রণালীতে যেভাবে উত্তজনা বাড়ছে, তাতে জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই বিকল্প ব্যবস্থা। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, রেশনের দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে সরাসরি পাম্প থেকে কেরোসিন পাওয়ার এই সুযোগ মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস কিছুটা হলেও কমাবে। চৈত্র শেষের রাজনৈতিক প্রচারের হুল্লোড়ের মাঝেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রশাসনিক তৎপরতা এখন সব মহলে চর্চার বিষয়। আগামী কয়েকদিন এই নিয়মের প্রভাব বাজারের ওপর কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।