
আমেরিকা-ইরান উত্তেজনার আবহে আরব সাগরে তিনটি ইরানের জাহাজকে পাকড়াও করল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। মুম্বই থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে তিনটি জাহাজকে আটক করা হয়। এরপর তদন্তের জন্য সেগুলিকে মুম্বই নিয়ে আসা হয়। এই খবর জানিয়ে X হ্যান্ডলে একটি পোস্টও করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে তা ডিলিটও করে দেওয়া হয়। এই নিয়ে রহস্য ক্রমশ বাড়ছে। তবে সোমবার নয়াদিল্লির একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অবৈধ লেনদেন রুখতে উপকূলে নজরদারি বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যদিকে তেলের জাহাজগুলির সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি।
X হ্যান্ডলে যে পোস্টটি করা হয়েছিল, তাতে আটক তিনটি জাহাজের নামও উল্লেখ করা হয়েছিল। সেগুলি হল Stellar Ruby, Asphalt Star ও Al Jafzia। অভিযোগ, ওই তিনটি জাহাজ উপকূলরক্ষী বাহিনীর নজর এড়াতে ঘনঘন নিজেদের পরিচয় বদলাত। জাহাজগুলির মালিকানাও ছিল বিদেশভিত্তিক।
কেন জাহাজগুলিকে আটক করা হল?
সূত্রের দাবি উল্লেখ করে সংবাদ সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, এই শিপ টু শিপ ট্রান্সফারের অভিযোগে এই তিনটি জাহাজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে মূলত এক জাহাজ থেকে আর এক জাহাজে তেল, পেট্রোলিয়াম বা অন্য কোনও পণ্য স্থানান্তর করা হয়। যাতে আদতে সেটা কোন দেশ থেকে আসছে, তা বোঝা না যায়। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং ট্র্যাকিং জটিল করতে এ ধরনের পদ্ধতি প্রায়ই ব্যবহার করা হয়। সূত্রের দাবি, ভারত চাইছে না শিপ টু শিপ পদ্ধতি ব্যবহার করে ভারতের জলসীমা ব্যবহার করে তেল অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হোক।
Reuters-এর সূত্র অনুযায়ী, জাহাজ আটক হওয়ার পর থেকে ভারতীয় উপকূল রক্ষীবাহিনী নজরদারি আরও বাড়িয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫৫টি জাহাজ ও ১০–১২টি বিমান ভারতের সামুদ্রিক অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এমন একটি সময়ে ভারত এই ইরানের জাহাজগুলিকে আটক করল, যখন মার্কিন-ভারত সম্পর্ক আবার জোড়া লাগতে শুরু করেছে। চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ভারত রুশ তেল কেনার রাস্তা থেকে সরে আসায় মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে।
অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে রীতিমতো কড়া মেজাজে রয়েছে আমেরিকা। ২০২৫-এই Global Peace, Chil 1 এবং Glory Star 1 নামের তিনটি জাহাজে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকা। এই তিনটি জাহাজের IMO নম্বর ভারতের আটক করা জাহাজগুলোর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।