
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে সারা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ক্ষেত্রে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যে দেশগুলির উপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি, সেই তালিকায় রয়েছে ভারতও। দেশের একাধিক শহরে রেস্তোরাঁগুলিতে গ্যাসের সঙ্কট এখনও প্রবল। বেঙ্গালুরুতে প্রায় ২০ শতাংশ রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে। কলকাতাতেও বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট বন্ধের পথে। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতে এসেছে বেশ কয়েকটি জাহাজ। ভারত-ইরান সম্পর্কের খাতিরেই হরমুজ থেকে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে অনুমতি মিলেছে। তবে শুধু জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা নয়, বরং ভবিষ্যতের জরুরি অবস্থার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র।
নতুন পরিকল্পনার আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনী বিভিন্ন স্থানে নিজেদের মোতায়েন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। দিনকয়েক আগেই উত্তর আরব সাগর থেকে ভারতীয় বন্দরে জাহাজগুলিকে এসকর্ট করার জন্য দুটি টাস্ক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল। এখন, ভারতীয় নৌবাহিনী আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে।
ভারতীয় নৌবাহিনী এই এলাকায় প্রায় সাতটি জাহাজ এবং রসদ সরবরাহকারী হেল্পার জাহাজ মোতায়েন করছে। ২০১৯ সাল থেকে চালু ‘অপারেশন সংকল্প’-এর আওতায় নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ইতিমধ্যেই ওমান উপসাগর এবং এডেন উপসাগরে রয়েছে। এই মোতায়েনের উদ্দেশ্য শুধু এলপিজি ও জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই নয়, বরং ভবিষ্যতে যে কোনও মোতায়েনের জন্য পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি থাকা।
হরমুজ সঙ্কট থেকে ভারত বড় শিক্ষা পেল
সামুদ্রিক পরিবহন ও নৌ অভিযান সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ কমোডর রঞ্জিত রায় (অবসরপ্রাপ্ত) ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছেন, এই সঙ্কট ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। ভারত বেশ কয়েকটি অপশন নিজেদের জন্য খোলা রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে।
রঞ্জিত রায় জানিয়েছেন, ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার ৪৫ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এই সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর উপর বিপদ হল, ভারতের হাতে কোনও ইনস্ট্যান্ট অপশনও নেই। ভারতের এখন একমাত্র উপায় হল, পূর্ব দিক থেকে রাশিয়ার তেল কেনা অথবা পশ্চিম দিক থেকে সমুদ্রপথে ভেনিজুয়েলা ও আমেরিকা থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করা। তবে এই দুটি ক্ষেত্রেই খরচ বিশেষ করে পরিবহন খরচস অনেক বেশি হবে। সেই তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি খুবই সস্তা।
রঞ্জিত রায় জানিয়েছেন, সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে স্থলপথে তেল পরিবহন করে তারপর এডেন উপসাগর হয়ে পাঠানোর অপশনটিও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। কিন্তু এর জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হতে হবে। এটা কতটা বাস্তবসম্মত হবে তাও ভেবে দেখতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, "আমরা এই পথ বেছে নিলে তেল কেনার খরচ বাড়তেই থাকবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভারতের প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে এই অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনীর মোতায়েন বাড়ানো। কারণ তেলবাহী জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়তে পারছে না। সেই কারণেই পারস্য উপসাগরের নতুন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হলে তৈরি রয়েছে নৌবাহিনী।"