
তেল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা এবার খেল দেখাতে শুরু করেছে। আমেরিকা ভেনেজুয়েলার তেলের দখল নেওয়ার পর এবার এই তেলের উপর আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে বিশ্বের অন্য দেশ ও তেল কোম্পানিগুলি। সেই তালিকায় এবার নাম লেখাল ভারতের দুটি তেল কোম্পানিও। এই দুটি তেল কোম্পানি মিলে প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রিপোর্টে উঠে এসেছে, ভেনেজুয়েলার তেল কিনছে IOCL ও HPCL। জানানো হয়েছে এই তেল কোম্পানিগুলি ২০ লক্ষ ব্যারেল তেলের জন্য একটি চুক্তি ইতিমধ্যেই করে ফেলেছে। রয়টার্সের তরফে সূত্রের দাবি করে জানানো হয়েছে, ভারতীয় তৈল শোধনাগারগুলি অপরিশোধিত তেলের নতুন সরবরাহের জন্য এখন ভেনেজুয়েলার দিকে ঝুঁকছে। আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যেই IOCL ও HPCL এই নয়া বরাত অনুযায়ী তেল হাতে পেতে চলেছে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলি ট্রাফিগুরা কোম্পানির মাধ্যমে এই অপরিশোধিত তেল কিনছে। রিপোর্ট মোতাবেক, ভারতীয় কোম্পানিগুলি সাধারণত চুক্তির গোপনীয়তার কারণে স্পট টেন্ডারের বিষয়ে কোনও তথ্য জানায় না। পাশাপাশি ট্রাফিগুরাও এই তেল চুক্তি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে চুক্তি যে হয়েছে এ একপ্রকার নিশ্চিত।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দাবি অনুসারে, HPCL প্রথমবারের জন্য এই তেল কেনার রাস্তায় হাঁটছে। তবে এর আগে ২০২৪ সালে IOC ভেনেজুয়েলার তেল প্রক্রিয়াজাত করেছিল। কিন্তু তারাও এবার প্রথম ভেনেজুয়েলার তেল কিনছে। বিশেষজ্ঞরা বলছে, এমন একটি সময়ে এই বিরাট চুক্তি হল, যখন আমেরিকা ভারতের উপর রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নয়। আমেরিকা বারেবারেই দাবি করে আসছে, নয়াদিল্লি শীঘ্রই আমেরিকার হাতে থাকা তেল থেকে অপরিশোধিত তেল কিনবে। কার্যক্ষেত্রে এই ডিলগুলি তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
উল্লেখ্য বিষয় হল, গতমাসেই আচমকা ভেনেজুয়েলায় ঢুকে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলো মুদরাইকে গ্রেফতার করে আমেরিকা। পরবর্তীতে সমস্ত ভেনেজুয়েলার তেলের দখল নেয় মার্কিন সরকার। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে এই তেল বিক্রির জন্য ভিটল এবং ট্রাফিগুরাকে মার্কিন লাইসেন্সও দেয়। এখন সেই বিক্রির কাজই চলছে।
তবে ভারতীয়দের মনে বদ্ধমূল ধারণা রয়েছে ভেনেজুয়েলার তেলের মান আদতে খারাপ। আসলে এই দেশে যে তেল উৎপাদিত হয়, তা অন্য রাশিয়ার বা অন্য দেশের তুলনায় কম পরিষ্কার। যদিও তেল কোম্পানিগুলি এই তেল কিনে পরিশোধিত করেই বাজারে নিয়ে আসবে। ফলে বিষয়টি নিয়ে ভাবনার কিছু নেই বলে মনে করছেন তেল বিশেষজ্ঞরা।