
যেহেতু চিনে কোভিড সংক্রমণ (China Covid Situation) মারাত্মক আকার নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত বলেছে যে তারা চিনে জ্বরের ওষুধ রফতানি করতে প্রস্তুত। ভারতীয় ওষুধ রফতানি সংস্থার চেয়ারপার্সন, সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO) রয়টার্সকে এই খবর জানিয়েছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ওষুধ প্রস্তুতকারক। নতুন ওমিক্রন সাব-ভেরিয়েন্ট BF.7 সংক্রমণের (Omicron sub-variant BF.7 ) কারণে চিনে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। হাসপাতালগুলিতে বেড পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) বলেছে যে বিশ্বের জেনেরিক ওষুধের অন্যতম বৃহৎ নির্মাতা ভারত এই পরিস্থিতিতে চিনকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। 'জিরো কোভিড ' নীতি (Zero Covid-19 Policy) ব্যবস্থা শিথিল হওয়ার পরেই চিনে কোভিড সংক্রমণ মাথাচাড়া দিয়েছে। চিনের মূল ভূখণ্ডে জ্বরের ওষুধ এবং ভাইরাস পরীক্ষার কিটের বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না। দোকানগুলিতে ওষুধ বিক্রির উপরে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
চিনে ওষুধের ঘাটতি
সিএনএন একটি প্রতিবেদনে বলেছে, বাসিন্দারা কী কিনতে পারে তার উপর কঠোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে চিনে। তারা একটি নির্দিষ্ট জ্বরের ওষুধের একটি মাত্র ফর্ম বেছে নিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আইবুপ্রোফেনের তরল বা ট্যাবলেট ফর্ম। ফ্লু-এর মতো লক্ষণগুলি উপশম করতে ব্যবহৃত সবচেয়ে সাধারণ ওষুধের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। জার্মানি ইতিমধ্যেই বায়োএনটেক কোভিড -১৯ টিকা চিনে পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন: International Arrivals Guidelines: শনিবার থেকে দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরছে COVID বিধি
জ্বরের ওষুধের চাহিদা বাড়ছে
আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) এবং প্যারাসিটামলের (Paracetamol) মতো জ্বরের ওষুধের ঘাটতি রয়েছে চিনে। সেই তুলনায় পাওয়া যাচ্ছে কম। ফার্মাসিউটিক্যালস এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার (ফার্মেক্সিল) চেয়ারপার্সন সাহিল মুঞ্জাল রয়টার্সকে বলেন, 'আইবুপ্রোফেন এবং প্যারাসিটামল চেয়ে ওষুধ নির্মাতাদের কাছে আবেদন আসছে। এই মুহূর্তে চিনে আইবুপ্রোফেন এবং প্যারাসিটামলের ঘাটতি রয়েছে। এগুলোর চাহিদা বেশি।'
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি (Arindam Bagchi) বলেছেন, 'আমরা চিনের কোভিড পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। আমরা সবসময় বিশ্বের ফার্মেসি হিসাবে অন্যান্য দেশকে সাহায্য করেছি।' নয়াদিল্লিতে চিনা দূতাবাস এখনও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে যে 'জিরো-কোভিড' নীতি পরিত্যাগ করার পরেই চিন জুড়ে গুরুতর করোনভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়েছে। চিনে টিকাকরণের হার কম, সেই কারণেই বিপুল সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন।