
Kerala Pinarayi Vijayan: দক্ষিণের দুর্গ আগলাতে কোমর বেঁধে নামল বামেরা। কেরল বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করতে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল সিপিএম। রবিবার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার রাজ্যের ১৪০টি আসনের মধ্যে ৮৬টিতে লড়বে কাস্তে-হাতুড়ি শিবির। আর প্রত্যাশা মতোই দলের প্রধান সেনাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন ফের লড়বেন তাঁর নিজের কেন্দ্র ধর্মাদম থেকেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজয়নের হাত ধরেই কেরলের লাল মাটিকে ফের অক্ষত রাখতে মরিয়া সিপিএম।
এদিন তিরুবনন্তপুরম থেকে সাংবাদিক বৈঠকে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। পিনরাই বিজয়ন ছাড়াও দলের একঝাঁক হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রীর নাম রয়েছে এই তালিকায়। বাম শিবিরের দাবি, দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করেই সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছবেন তাঁরা। পিনরাই বিজয়ন ধর্মাদম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জেনে উচ্ছ্বসিত তাঁর অনুগামীরা। তবে কেবল জয়ের লক্ষ্যেই নয়, এবার দলের প্রার্থী তালিকায় এক ঝাঁক নতুন মুখ এবং মহিলা প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
কেরলের রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এবং বিজেপির উত্থান বামেদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল। কিন্তু বিজয়নের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং বিপর্যয় মোকাবিলায় তাঁর শক্ত হাতের পরিচালনা সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে। তাই কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষায় না গিয়ে পরিচিত রণক্ষেত্র থেকেই সেনাপতিকে ময়দানে নামাল দল। তবে কেবল সিপিএম নয়, বাম গণতান্ত্রিক জোটের (এলডিএফ) অন্য শরিক দলগুলোর সঙ্গেও আসন রফার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিরোধীদের পক্ষ থেকে অবশ্য বিজয়ন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ তুলে প্রচার শুরু হয়েছে। কংগ্রেস ও বিজেপি উভয় পক্ষই মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর নিজের কেন্দ্র ধর্মাদমে কড়া টক্কর দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও বাম শিবিরের দাবি, ধর্মাদমের মাটি পিনরাইয়ের জন্য অত্যন্ত উর্বর এবং সেখান থেকে তাঁর জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। ভোট পণ্ডিতদের মতে, পিনরাইয়ের এই লড়াই আসলে তাঁর সরকারের গত দশ বছরের কাজের গণভোট।
বিজেপি যেভাবে কেরলের কপালে তিলক কাটতে চাইছে, তাকে ঠেকাতে এবার হিন্দু ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক উভয়কেই তুষ্ট রাখার কৌশল নিয়েছে সিপিএম। প্রার্থী তালিকায় সামাজিক ভারসাম্যের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ৮৬টি আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, ছোট শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা করেও নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে চাইছে বড় শরিক সিপিএম। সব মিলিয়ে দক্ষিণের এই রাজ্যে এখন ভোটের পারদ আকাশছোঁয়া।