
জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী কুণাল কামরা আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ও ভিডিও ঘিরে মহারাষ্ট্রজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনার জেরে শিবসেনা (শিন্ডে গোষ্ঠী) কর্মীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, এমনকী মুম্বইয়ের এক হোটেল ও স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
কী ঘটেছিল কুণাল কামরার শোয়ে?
সম্প্রতি কুণাল কামরা একটি স্ট্যান্ডআপ শো-তে ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমার একটি জনপ্রিয় গানের প্যারোডি পরিবেশন করেন, যেখানে সরাসরি একনাথ শিন্ডেকে উদ্দেশ্য করে তীব্র রাজনৈতিক বিদ্রুপ করা হয়। এই ভিডিওটি তিনি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। শিবসেনার শিন্ডে গোষ্ঠীর নেতারা এটিকে তাঁদের দলের বিরুদ্ধে অপমানজনক বলে মনে করেন এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
এরপর, কুণাল কামরা এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি হাতে ছোট আকারের ভারতীয় সংবিধানের একটি কপি ধরে আছেন। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, 'The only way forward...' (অর্থাৎ 'এটাই একমাত্র পথ')। এই প্রতীকী বার্তা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়, কারণ কিছুদিন আগেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও সংসদ ও জনসমাবেশে এমনই সংবিধানের একটি কপি হাতে তুলে ধরে ‘সংবিধান বাঁচাও’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন।
শিবসেনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ও হিংসাত্মক ঘটনা
কুণাল কামরার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর, শিবসেনার (শিন্ডে গোষ্ঠী) কর্মীরা মুম্বইয়ের খার এলাকায় অবস্থিত হোটেল ইউনিকনটিনেন্টাল ও একটি স্টুডিওতে হামলা চালান। তাঁদের দাবি, এখানেই ভিডিওটি রেকর্ড করা হয়েছিল। এদিকে, মহারাষ্ট্রের বিধায়ক মুরাজী প্যাটেলের অভিযোগের ভিত্তিতে MIDC থানায় কুণাল কামরার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
সঞ্জয় নিরুপমের হুঁশিয়ারি
সদ্য শিবসেনায় যোগ দেওয়া রাজনৈতিক নেতা ও প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় নিরুপম এক্স-এ লিখেছেন, 'কাল করব কুণাল কামরার ধোলাই। ১১ টায়।' এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে এবং নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
অভিব্যক্তির স্বাধীনতা নাকি সীমালঙ্ঘন?
এই ঘটনা গণতন্ত্রে ব্যঙ্গবিদ্রূপের সীমা ঠিক কোথায় হওয়া উচিত, সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।
➡ এক পক্ষের মতে, রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনা বা বিদ্রুপ গণতন্ত্রেরই অংশ, এবং কৌতুকশিল্পীদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার থাকা উচিত।
➡ অন্যদিকে, শিবসেনার (শিন্ডে গোষ্ঠী) নেতাদের দাবি, এটি কেবলমাত্র বিদ্রূপ নয়, বরং পরিকল্পিত রাজনৈতিক অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপমান।
এখন দেখার বিষয়, এই বিতর্ক আদালত পর্যন্ত গড়ায় কি না এবং কুণাল কামরা ভবিষ্যতে কী প্রতিক্রিয়া দেন। আপনার মত কী? রাজনৈতিক ব্যঙ্গ কি মেনে নেওয়া উচিত, নাকি এরও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা প্রয়োজন?