
মধ্য প্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে গোটা দেশেই দেখা দিয়েছে জ্বালানির সমস্যা। গোটা দেশের বিভিন্ন জায়গায় রান্নার গ্যাসের অভাবে বন্ধ হতে বসেছে অনেক রেস্তোরাঁ। বাড়িতেও রান্নার গ্যাস নিয়ে হাহাকারের খবর শোনা যাচ্ছে। প্রভাব পড়েছে পরিবহন ব্যবস্থায়ও। গ্যাস না থাকায় বিভিন্ন রুটে দেখা যাচ্ছে অটোর আকাল। এবার ভারতীয় রেলও এ ব্যাপারে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে।
কীভাবে সঙ্কট মোকাবিলা করার পরিকল্পনা রেলের?
এই যুদ্ধ যদি আরও বেশিদিন চলে তা হলে সমস্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। ফলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে চলেছে রেল।সূত্রের খবর, এলপিজি সরবরাহের সম্ভাব্য ঘাটতি পূরণ করতে মাইক্রোওয়েভ এবং ইন্ডাকশনের মতো বিকল্প রান্নার পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে চলমান ট্রেনে রান্না হবে না। যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন স্টেশন থেকে খাবার তোলা হবে। পাশাপাশি ট্রেনের মধ্যে রেডি টু ইট খাদ্য সামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুদ রাখার কথা বলা হয়েছে।
গোটা আর এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারের তরফ থেকে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে LPG-এর বাণিজ্যিক ব্যবহার আপাতত কমিয়ে দেশের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছনোর বিষয়ে জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিসনেস টুডে-এর পক্ষ থেকে জানান হয়েছে যে সারা ভারতে ১০ শতাংশ LPG উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম LPG উৎপাদন বাড়িয়েছে।
প্ল্যান বি কি কাজ করছে?
LPG সঙ্কট কাটাতে শুধু দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করেই বসে থাকছে না কেন্দ্রা বরং LPG এবং LNG-এর সমস্যা মেটাতে একাধিক দেশ থেকেও গ্যাস আনার চেষ্টা করছে ভারত। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নরওয়ে এবং অন্যান্য একাধিক দেশ থেকে গ্যাস বোঝাই কার্গো আসতে শুরু করেছে। যার ফলে বাড়ি বাড়ি গ্যাস পৌঁছনো সম্ভব হবে।
কোথা থেকে গ্যাস কেনে ভারত?
কাতার থেকে ৪২২২ শতাংশ, আমেরিকা থেকে ১৮.৫ শতাংশ, ইউএই থেকে ১১.১১ শতাংশ, অ্যাঙ্গোলো ৭.০৭ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ অন্যান্য সোর্স থেকে LNG কেনে ভারত। আর LPG-এর ক্ষেত্রে ইউএই এবং কাতার থেকে মোট ৬২ শতাংশ কেনা হয়। এছাড়া সৌদি থেকে ১৮.৫ শতাংশ এবং কুয়েত থেকে ১৫.৬ শতাংশ কেনে ভারত। আর এই সব জায়গা থেকেই LPG এবং LNG আসছে না। যদিও সরকার দাবি করছে নতুন দেশগুলি থেকে গ্যাস আনার ফলে সমস্যা মিটে গিয়েছে।