
হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাতের কারণে ভারতে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এখনই ভারতে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিচ্ছে, এমনটা বলা চলে না।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক পঞ্চমাংশ সাধারণত এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজে হামলা এবং ইরানের সতর্কবার্তার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
ভারতের উপর সম্ভাব্য প্রভাব
বিবিসি-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৯০% আমদানি করে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক, প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল, এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে।
মূলত যে সব দেশ থেকে এই তেল আসে
> ইরাক
> সৌদি আরব
> সংযুক্ত আরব আমিরশাহি
> কুয়েত
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০ ডলার বাড়াতে ভারতের মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ০.২-০.২৫% পয়েন্ট বাড়তে পারে। সরকার যদি চাপ কমাতে জ্বালানির কর কমায় তাহলে রাজস্ব ঘাটতিও বাড়তে পারে।
আসল ঝুঁকি: LPG/LNG
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রুড অয়েলের তুলনায় বেশি ঝুঁকি রয়েছে রান্নার গ্যাস ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসে। মেরিটাইম ইন্টালিজেন্স সংস্থা Kpler-এর বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়ার মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে ঝুঁকি উদ্বেগজনক হলেও সবচেয়ে বেশি চিন্তার বিষয় হল LPG/LNG।
ভারতে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে রান্নার জন্য LPG-র ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ফলে এখন দেশটি তার ব্যবহৃত LPG-র প্রায় ৮০-৮৫% আমদানি করে এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম LPG আমদানিকারক।
এই গ্যাসের প্রায় সবটাই আসে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে
> কাতার
> সৌদি আরব
> সংযুক্ত আরব আমিরশাহি
> কুয়েত
এগুলির প্রায় সব জাহাজই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়।
LNG–এর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা
ভারতের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন চাহিদার তুলনায় খুবই কম। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, পরিবহণ ও শিল্পে গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। গত বছর ভারত প্রায় ২৫ মিলিয়ন টন LNG আমদানি করেছে, যার মধ্যে প্রায় ১৪ মিলিয়ন টনই হরমুজ হয়ে এসেছে।
মজুতের সীমাবদ্ধতা
LPG-র ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল পর্যাপ্ত মজুদত না থাকা। আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে বর্তমানে মজুত থাকা LPG দিয়ে মাত্র ২-৩ সপ্তাহ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
অন্যদিকে, ক্রুড অয়েলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভাল। ভারতের রিফাইনারি ও বাণিজ্যিক মজুতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। যা দিয়ে প্রায় ৩০-৩৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
বিকল্প
প্রয়োজনে ভারত বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি বাড়াতে পারে।
>রাশিয়া
> আমেরিকা
> পশ্চিম আফ্রিকা
> লাতিন আমেরিকা
এসব অঞ্চল থেকে তেল আসতে ২৫–৪৫ দিন সময় লাগে। যেখানে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসতে মাত্র ৫–৭ দিন লাগে। ফলে পরিবহণ খরচও বাড়বে।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে, এই সম্ভাবনা কম। বরং সাময়িক বিলম্ব, জাহাজের পথ পরিবর্তন বা কঠোর নিরাপত্তা দেখা যেতে পারে।
যদি সঙ্কট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তেলের তুলনায় রান্নার গ্যাস (LPG) এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য LNG সরবরাহ দ্রুতই চাপের মুখে পড়তে পারে।