
শিবালিকের পর নন্দাদেবী। ভারতের গুজরাত উপকূলে পৌঁছল আরও একটি গ্যাস বোঝাই জাহাজ। প্রায় ৪৭ হাজার মেট্রিক টন LPG নিয়ে গুজরাতের ভাডিনার বন্দরে এসে পৌঁছল জাহাজটি। মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে হরমুজ প্রণালী পার করে দ্বিতীয় জাহাজ হিসেবে নন্দাদেবী এসে পৌঁছল ভারতে।
এর আগে 'শিবালিক' জাহাজটিও প্রায় ৪৬ হাজার তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস নিয়ে গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে এসে পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই একটি জাহাজে যে পরিমাণ LPG রয়েছে, তা দিয়ে সারা দেশের একদিনের LPG সঙ্কট কাটানো সম্ভব হবে। শিবালিক জাহাজের গ্যাস দিয়ে ভারতের প্রায় ৩২.৪ লক্ষ পরিবারে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
বন্দর-জাহাজ পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা সোমবার জানিয়েছিলেন, "পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাবিক নিরাপদ আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পারস্য উপসাগরে ২৪টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ, শিবালিক এবং নন্দা দেবী, নিরাপদে ভারতের দিকে আসছে। "
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নন্দাদেবী গুজরাত এসে গিয়েছে, আবার ২৪ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি তামিলনাড়ুতে পাঠানো হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দুটি জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছনোর ফলে এলপিজি সরবরাহ ফের সঠিক হবে। তবে পরপর জাহাজ আসা নিশ্চিত করতে হবে কেন্দ্রকে।
এখন কী পরিস্থিতি?
এই মুহূর্তে সাধারণ গৃহস্থের রান্নাঘরে গ্যাসের সঙ্কট রয়েছে, তা বলা যাবে না। তবে বাণিজ্যিক গ্যাসের অভাব যে রয়েছে তা নিয়ে একমত ব্যবসায়ীরা। কলকাতা থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরু, চেন্নাই সর্বত্রই চিত্রটা এক। একাধিক শহরে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ বন্ধ করা হয়েছে। কোথাও মেনুতে কাঁটছাঁট করা হয়েছে। আবার কোথাও কাঠকয়লা দিয়ে চলছে রান্না। সব মিলিয়ে রেস্তোরাঁ খাত এই মুহূর্তে জ্বালানি সঙ্কটে ভুগছে।