
I-PAC এর অফিস এবং সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে ED রেড ঘিরে তোলপাড় বাংলা। সেই আঁচ এবার দিল্লিতেও। অমিত শাহের দফতরের বাইরে শুক্রবার সকাল থেকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূলের সাংসদরা। নির্বাচনী তথ্য হাতাতেই আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ দেখাচ্ছিলেন মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও'ব্রায়েনরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন শতাব্দী রায়, কীর্তি আজাদ সহ অন্যরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হয় দিল্লি পুলিশ। মন্ত্রকের সামনে থেকে চ্যাংদোলা করে সরিয়ে দেওয়া হয় তৃণমূল সাংসদদের।
কোন কোন সাংসদ ছিলেন ধর্নায়?
ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র, বাপি হালদার, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল, কীর্তি আজাদ এবং শর্মিলা সরকার।
কেন ধর্না?
সাংসদদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচনী কৌশল ‘চুরি’ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
আটক তৃণমূল সাংসদরা
চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং মহুয়া মৈত্রকে। ধর্না চলাকালীন টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় শতাব্দী এবং প্রতিমাকে। বাপিকে কার্যত পাঁজাকোলা করে সরিয়ে দেয় পুলিশ। সাকেতকেও টেনে নিয়ে ভ্যানে তোলে পুলিশ। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায়।
মহুয়া মৈত্র বলেন, 'এই BJP-কে আমরা হারিয়ে ছাড়ব। দিল্লি পুলিশ কীভাবে একজন সংসদ সদস্যকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে দেখুক জনতা।' ডেরেক ও'ব্রায়েন একাধিকবার বাধা দিলেও পুলিশ তাঁকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। কীর্তি আজাদের বক্তব্য, 'BJP জিততে পারবে না। ওদের হিম্মত নেই। অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ED-কে দিয়ে রেড করিয়ে ভোটে জিততে চাইছে এরা।' শতাব্দী রায় বলেন, 'ভোটের সময়ে অমিত শাহের সব কিছু মনে পড়ে। ১০ বছরে কিছু মনে পড়েনি।'
প্রতিবাদ অভিষেকের
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স পোস্ট এই ঘটনার প্রতিবাদ করে বলেন, 'গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এজেন্সিকে হাতিয়ার করে ভোট বিকৃত করার চেষ্টা চলছে।' তিনি কটাক্ষ করে বলেন, 'প্রতিবাদীদের জেলে পাঠানো হচ্ছে আর ধর্ষকদের জামিন দেওয়া হচ্ছে। এটাই BJP-র নিউ ইন্ডিয়া। তবে গোটা দেশ এদের কাছে মাথা নত করলেও বাংলা প্রতিরোধ করবে। শেষ বিন্দু পর্যন্ত আমরা লড়ব, হারাব। যতই বলপ্রয়োগ করো না কেন।'
শমীকের প্রতিক্রিয়া
এই নিয়ে BJP-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সামনে ধর্না দিতে পারবে না, এখানকার মানুষ ওদের চিনে গিয়েছে। তৃণমূল আর দুর্নীতি এখন সমান। এটাতে সিলমোহর লাগিয়ে দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ভারতের ইতিহাসে কোনও মুখ্যমন্ত্রী এমন নজির করে দেখাতে পারেননি।'