
শুক্রবার রাতের প্রবল কালবৈশাখীতে বিপাকে পড়ে কলকাতার বিমান পরিষেবা। শুধু অমিত শাহর বিমানই নয়, খারাপ আবহাওয়ার জেরে অন্তত চারটি বিমান কলকাতায় অবতরণ করতে পারেনি। ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির কারণে আকাশপথে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভিভিআইপি ও ভিআইপি যাত্রী বহনকারী বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে ডায়রেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)। মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল-সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বহনকারী অনির্ধারিত বিমান ও হেলিকপ্টার অপারেশনের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
ডিজিসিএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই পাইলট বা ক্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে না, বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে, যা উড়ানের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে পারে। শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হলে তা সরাসরি ক্রুদের সঙ্গে নয়, সংস্থার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমন্বয় করতে হবে।
জানুয়ারি মাসে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতেও এই নির্দেশিকা গুরুত্বপূর্ণ। ওই দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার সহ আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে (যদিও এই দাবি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে)।
ডিজিসিএ-র পর্যবেক্ষণ, অতীতে ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনার সময় একাধিক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং নির্দেশিকা না মানার ঘটনা সামনে এসেছে, বিশেষ করে অস্থায়ী হেলিপ্যাড বা ছোট এয়ারস্ট্রিপ থেকে উড়ানের ক্ষেত্রে। তাই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্বাচনী উড়ানের জন্য প্রতিটি অপারেটরকে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মনোনীত করতে হবে, যিনি সমস্ত নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করবেন। তাঁকে কেন্দ্রীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।
এছাড়াও, ভিভিআইপি ফ্লাইটের পাইলট ইন কমান্ডের (PIC) ন্যূনতম ৩,০০০ ঘণ্টা উড়ানের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে (হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রে ২,০০০ ঘণ্টা)। আবহাওয়ার ন্যূনতম মান কঠোরভাবে মেনে চলা এবং উড়ানের আগে যথাযথ আবহাওয়ার তথ্য নেওয়াও বাধ্যতামূলক।
ডিজিসিএ আরও জানিয়েছে, নির্বাচনী উড়ান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, কারণ এতে দীর্ঘ সময় উড়ান, বারবার ওঠানামা, হেলিপ্যাডের সীমাবদ্ধতা এবং সময়সূচির ঘন ঘন পরিবর্তনের মতো নানা চাপ থাকে। তাই পাইলট ও প্রযুক্তিগত দলের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই বাহ্যিক চাপ তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারবে না।