
তেলঙ্গনায় ফের উদ্বেগজনক ছবি। গত এক মাসে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিষ প্রয়োগ করে ১,২০০-রও বেশি রাস্তার কুকুরকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মুখে বিষ ঢুকিয়ে বা ইনজেকশনের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। পশু কল্যাণ কর্মীদের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এই ঘটনায় অন্তত ১০টি বানরের মৃত্যুর খবরও মিলেছে।
এই ব্যাপক কুকুর হত্যাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। কর্মীদের একাংশের দাবি, সদ্য সমাপ্ত গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে। অভিযোগ, ভোটের আগে বহু প্রার্থী রাস্তার কুকুর ও বানর সরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনে জয়ের পর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই বেআইনি ও নিষ্ঠুর পথে হাঁটা হচ্ছে।
শুধু তেলঙ্গনা নয়, গোটা দেশেই রাস্তার কুকুর নিয়ে বিতর্ক তীব্র। কুকুরের কামড় ও জলাতঙ্কের ঘটনা বাড়লেও, কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে তা নিয়ে সমাজ ও আদালতের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট একাধিক মামলার শুনানিতে স্থানীয় প্রশাসনকে বেওয়ারিশ কুকুর ধরার, জীবাণুমুক্ত করার ও আশ্রয় দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, বাস্তবে সেই নির্দেশিকা কার্যকর হচ্ছে না বলেই অভিযোগ।
হনুমাকোন্ডায় ২০০ কুকুর হত্যা
হনুমাকোন্ডা জেলার পাথিপাকা গ্রামে প্রায় ২০০টি রাস্তার কুকুরকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রায় এক মাস আগে থেকেই এই কাজ শুরু হয়েছিল। ২৫ জানুয়ারি স্থানীয়রা গ্রামের পাশে মাটি চাপা দেওয়া মৃত কুকুরের দেহ দেখতে পেয়ে পশু কর্মীদের খবর দেন।
একাধিক জেলায় একই ছবি, কামারেডি, জাগতিয়াল, হনুমাকোন্ডা, রাঙ্গা রেড্ডি ও নাগারকুর্নুল থেকেও গণহত্যার খবর এসেছে। নাগারকুর্নুলের থিম্মাইপল্লি গ্রামে প্রায় ১০০টি কুকুরকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে।
৯ জানুয়ারি আরেপল্লি গ্রামে ৩০০টি কুকুর হত্যার ঘটনায় পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। ওই মামলায় গ্রাম সরপঞ্চ ও সচিব-সহ একাধিকজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে।
কর্মীদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ
পশু কল্যাণ কর্মীদের অভিযোগ, বহু ঘটনাই এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে। তাঁদের মতে, ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে মোট মৃত কুকুরের সংখ্যা ১,২০০ ছাড়িয়ে ১,৫০০ পর্যন্ত হতে পারে।
২৭ জানুয়ারি দিল্লিতে পশু কর্মী ও পরিবেশবাদীরা মৃত কুকুরদের স্মরণে তেরাহভির আয়োজন করেন। তাঁদের বক্তব্য, এই ঘটনা প্রমাণ করে প্রাণী সুরক্ষা আইন কার্যত কতটা দুর্বলভাবে প্রয়োগ হচ্ছে।
কর্মীদের দাবি, রাস্তার কুকুর সমস্যার একমাত্র বৈজ্ঞানিক ও আইনি সমাধান হল পশু জন্মনিয়ন্ত্রণ (ABC), টিকাকরণ এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি। নির্বিচারে প্রাণী হত্যা কোনও সমাধান নয়, বরং তা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরই প্রতিফলন।