
ভারতের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের নিরিখে মেঘালয় বর্তমানে শীর্ষে। এ কথা জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়াইলাদমিকি শ্যালা। বুধবার বিধানসভায় তিনি জানান, রাজ্যে বর্তমানে ১০,২৯৩ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি নিচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই ২৫ কোটি টাকার একটি পাঁচ বছরের মিশন-মোড হস্তক্ষেপ পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে।
এনপিপি বিধায়ক মেহতাব চান্ডি এ সাংমার প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে এই রোগ-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪৯। এর মধ্যে পূর্ব খাসি পাহাড় জেলায় সর্বাধিক ৪৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম জৈন্তিয়া পাহাড়ে ১২৩ এবং পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড়ে ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য জেলাগুলিতে তুলনামূলকভাবে সংখ্যা কম।
মন্ত্রী আরও জানান, রিপোর্ট হওয়া সমস্ত মৃত্যুই মূলত সুযোগসন্ধানী সংক্রমণের কারণে ঘটেছে; সরাসরি এইচআইভি/এইডসকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক কলঙ্ক ও গোপনীয়তার বিধান। এইচআইভি ও এইডস (প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইনের অধীনে রোগীর সম্মতি ছাড়া পরীক্ষা করা যায় না এবং কাউকে চিকিৎসা নিতে বাধ্যও করা যায় না। ফলে অনেকেই পরীক্ষা করাতে বা চিকিৎসা শুরু করতে এগিয়ে আসতে ভয় পাচ্ছেন।
তবু পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সচেতনতা বৃদ্ধি, পরীক্ষা কেন্দ্র সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসা পরিষেবা জোরদার করার উপর জোর দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা ও রাজ্য মন্ত্রিসভাকে পাঁচ বছরের মিশন অনুমোদনের জন্য কৃতিত্ব দেন মন্ত্রী। বর্তমানে রাজ্যে ৩৯২টি ইন্টিগ্রেটেড কাউন্সেলিং অ্যান্ড টেস্টিং সেন্টার (আইসিটিসি) এবং চারটি মোবাইল আইসিটিসি পরিষেবা চালু রয়েছে।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, 'এইচআইভি এখন আর মৃত্যুদণ্ড নয়। যদিও এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়, তবে নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্তরা মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।' আগামী দিনে সচেতনতা ও চিকিৎসা পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কেন্দ্রের তরফেও আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ হয়েছে বলে জানান তিনি।