
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে প্রথমবার প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। ক্ষমতা গ্রহণের পর দেওয়া প্রথম মন্তব্যেই তিনি আক্রমণ শানালেন আমেরিকার বিরুদ্ধে। বলে দিলেন, হরমুজ প্রণালী থেকে বন্ধ রাখার নীতি থেকে ইরান সরে আসবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে সেগুলির উপর হামলা চালানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মোজতবা।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'এই যুদ্ধে আমাদের শহিদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। শত্রুপক্ষ যদি যুদ্ধক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে, তাহলে আমরা তাদের সম্পদের যতটা সম্ভব দখল করব। তা সম্ভব না হলে সমপরিমাণ সম্পত্তি ধ্বংস করে দেব।'
হরমুজ প্রণালী নিয়ে কড়া অবস্থান
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের নতুন নেতা নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। তিনি জানান, চলমান সংঘাতে চাপ তৈরি করতে হলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার কৌশলগত লিভার ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে। উল্লেখ্য, এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, ফলে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেশী দেশগুলিকে বার্তা
একই সঙ্গে খামেনেই দাবি করেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় তেহরান। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, কোনও দেশ যদি তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা ঘাঁটি রাখতে দেয়, তাহলে সেগুলিও হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
তিনি বলেন, 'আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাস করি। কিন্তু যেসব ঘাঁটি আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে, সেগুলিই লক্ষ্যবস্তু হবে।'
মিনাব স্কুল হামলার প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি
নিজের বক্তব্যে দক্ষিণ ইরানের শহর মিনাবে একটি মেয়েদের স্কুলে হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও উল্লেখ করেন নতুন নেতা। ওই হামলায় অন্তত ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান, যার মধ্যে প্রায় ১১০ জন শিশু ছিল। খামেনেই বলেন, 'আমরা শুধু আমাদের শহিদ নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেব না, এই যুদ্ধে নিহত প্রতিটি ইরানির রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। মিনাব স্কুলের শিশুদের হত্যার বিচারও আমরা করব।'
মিত্রদের ধন্যবাদ
এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ভূমিকাকেও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে ইয়েমেনের প্রতিরোধ আন্দোলন এবং ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।