
প্রয়াগরাজের কুম্ভমেলায় ভাইরাল হওয়া তরুণী মোনালিসা ভোঁসলেকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেরলমে এক মুসলিম যুবককে বিয়ে করার পর এবার তাঁকে নিয়ে ‘লভ জেহাদ’-এর অভিযোগ তুললেন তাঁর বাবা। বিষয়টি নিয়ে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তিনি।
মধ্যপ্রদেশের মাহেশ্বরের বাসিন্দা এবং যাযাবর পারধি সম্প্রদায়ের সদস্য ১৮ বছরের মোনালিসা ভোঁসলে বুধবার কেরালমের পোভার এলাকার মন্দিরে ফরমান খান নামে এক যুবককে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় ক'য়েকজন রাজ্যের মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এরপরই মোনালিসার বাবা জয়সিং ভোঁসলে অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে ফুঁসলিয়ে ‘লাভ জেহাদ’-এর ফাঁদে ফেলা হয়েছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'আমার মেয়ে সারা দেশে পরিচিতি পেয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, যাতে মোনালিসাকে নিরাপদে মধ্যপ্রদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ফরমান খান তাকে প্রতারণা করে বিয়ে করেছে।'
তিনি আরও জানান, তাঁর মেয়ে সিনেমায় কাজ করার স্বপ্ন দেখছিল। কিছু লোক তাকে অভিনয় ও নাচ শেখানোর কথা বলেছিল এবং ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই সূত্রেই মেয়ের সঙ্গে ওই যুবকের পরিচয় হয় বলে দাবি তাঁর।
অন্যদিকে, হিন্দু সংগঠন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কয়েকজন কর্মী জানিয়েছেন, তাঁরা মোনালিসাকে বাড়ি ফিরতে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন।
তবে সব অভিযোগই উড়িয়ে দিয়েছেন মোনালিসা নিজে। তিরুঅনন্তপুরমে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, এই বিয়ে তাঁর নিজের সিদ্ধান্তেই হয়েছে এবং তা হিন্দু রীতিনীতি মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমাদের বিয়েতে কোনও জোরজবরদস্তি নেই। ধর্মান্তরেরও প্রশ্ন নেই। আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসার উপর দাঁড়িয়ে।'
প্রয়াগরাজের কুম্ভ মেলায় ভাইরাল হওয়ার পর ‘কুম্ভমেলার মেয়ে’ নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন মোনালিসা। তিনি আরও জানান, পরিবারের তরফে তাঁর বিয়ে এক আত্মীয়ের সঙ্গে ঠিক করা হচ্ছিল, যা তিনি মানতে চাননি। সেই কারণেই পরিবার তাঁর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের আপত্তির কথা জানিয়ে বিয়ের আগে মোনালিসা থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। এরপরই কেরালার মন্দিরে এই দম্পতির বিয়ে হয়। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।