
মহারাষ্ট্রের মুম্বই থেকে মধ্যপ্রদেশের খর্গোন। দুটি রাজ্যের দূরত্ব মুছে দিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার সম্পর্ক। কিন্তু সেই সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত পরিণত হল ভয়ানক বিপর্যয়ে। মাত্র ১৪ বছরের আরুশি লোকারে এবং তার ইনস্টাগ্রাম বন্ধুর ভাগ্যজট খুলল না পরিবারের আপত্তির চাপে। ফল, এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু, আর এক যুবকের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইনস্টাগ্রামে পরিচয় হয়েছিল মুম্বইয়ের আরুশি লোকারে এবং খর্গোনের জলুদ গ্রামের ১৮ বছরের চিরাগ রাঠোরের। দুই মাসের মধ্যেই বন্ধুত্ব রূপ নেয় প্রেমে। সম্প্রতি চিরাগের জন্মদিনে গোপনে মুম্বই থেকে খর্গোনে চলে আসে আরুশি। পরিবারের অগোচরে এই সফরেই শুরু হয় বিপত্তি।
আরুশির ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার পরিবার মুম্বইয়ে নিখোঁজ ও সম্ভাব্য অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে। অন্যদিকে দুই পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হতেই স্পষ্ট হয়, তরুণ-তরুণীর সম্পর্ক নিয়ে প্রবল আপত্তি রয়েছে উভয় পক্ষের। আর তাতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে দুই কিশোর-যুবক।
পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন দুপুরে পরিবারকে এড়িয়ে কাছের একটি মাঠের কুয়োর ধারে যায় দুই জন। সেখানেই হঠাৎ দু’জনেই জলে ঝাঁপ দেয়। মাঠে কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে একজন চিৎকার শুনে দ্রুত ছুটে যান। এরপরই শুরু হয় উদ্ধারকাজ।
স্থানীয় ট্রাক্টর চালক গোবিন্দ দেবদা প্রথমে জলে লাফ দেওয়া চিরাগকে উপরে তোলার চেষ্টা করেন। পরে আরও কয়েকজন গ্রামবাসী মিলে দুই জনকে কুয়ো থেকে টেনে তোলেন। কিন্তু তখন বেশ দেরি হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় আরুশি। চিরাগকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে খর্গোন জেলা হাসপাতালে আরুশির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা মুম্বই থেকে এসে দেহ গ্রহণ করেন। ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে আসে জলুদ গ্রামেও।
খর্গোন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। মুম্বই পুলিশ আগে থেকেই নিখোঁজ ও অপহরণ সন্দেহে মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলার নথি খর্গোন থানায় পাঠানো হয়েছে। এখন যৌথ তদন্তে উঠে আসবে আরুশির সফর, সম্পর্ক এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যোগাযোগের সময়ে ঠিক কী কী ঘটেছিল।
পুলিশের দাবি, কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ও মানসিক চাপ নিয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সময়মতো নজর দিলে এ ধরনের বিপদজনক সিদ্ধান্ত হয়তো এড়ানো যেত বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।