Advertisement

'স্বামীর বয়স ৪০, আমি ১৯', হাজবেন্ডকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে থাকার অনুমতি পেলেন তরুণী

স্বামী-বাবা ও মা তখন কোর্টরুমে। কাঠগড়ায় ১৯ বছরের তরুণী। তাঁকে হাইকোর্টের বিচারপতি জিজ্ঞাসা করেন, 'আপনি কার সঙ্গে থাকতে চান?' প্রশ্ন শুনে একটুও ঘাবড়ে না গিয়ে সপ্রতিভ হয়েই তিনি জবাব দেন, 'আমি প্রাপ্তবয়স্ক। নিজের ইচ্ছায় জীবনযাপন করছি।'

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
Aajtak Bangla
  • গোয়ালিয়র ,
  • 06 Apr 2026,
  • अपडेटेड 2:42 PM IST
  • স্বামীর সঙ্গে না থাকলেও চলবে
  • লিভ ইন পার্টনারের সঙ্গে থাকতে পারেন
  • তরুণীকে নির্দেশ মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের

স্বামী-বাবা ও মা তখন কোর্টরুমে। কাঠগড়ায় ১৯ বছরের তরুণী। তাঁকে হাইকোর্টের বিচারপতি জিজ্ঞাসা করেন, 'আপনি কার সঙ্গে থাকতে চান?' প্রশ্ন শুনে একটুও ঘাবড়ে না গিয়ে সপ্রতিভ হয়েই তিনি জবাব দেন, 'আমি প্রাপ্তবয়স্ক। নিজের ইচ্ছায় জীবনযাপন করছি। স্বামী বা বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে চাই না।' 

তরুণীর মুখ থেকে এই কথাগুলো উচ্চারিত হওয়ার পর কোর্টরুমে এক মুহূর্তের নিরবতা। যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না সেখানে উপস্থিত লোকজন। কিন্তু তরুণীর সিদ্ধান্তে সম্মতি জানালেন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি। কোর্ট জানিয়ে দিল, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় স্বামীর সঙ্গে না থাকার অধিকার আছে মেয়েটির। তিনি প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে পারেন। তাতে কারও আপত্তি তোলার কোনও জায়গা নেই। 

মামলাটি কী?

প্রায় ১ বছর আগে তরুণীর সঙ্গে অবধেশ নামে এক ব্যক্তির বিয়ে হয় । সেই ব্যক্তি কোর্টে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দায়ের করেন। অভিযোগ ছিল, তাঁর স্ত্রীকে অবৈধভাবে আটকে রেখেছেন অনুজ কুমার নামে  এক ব্যক্তি। সেজন্য তিনি স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করতে পারছেন না। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তরুণীকে খুঁজে বের করে। তারপর তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়। 

'আমার থেকে ২১ বছরের বড়'

বিয়ে করার পরও কেন অন্য পুরুষের সঙ্গে আছেন? তরুণীকে এই প্রশ্ন করা হয় কোর্টের তরফে। তার উত্তরে তিনি জানান, তাঁর বিয়ে হয়েছিল অবধেশের সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে স্বামীর বয়সের ব্যবধান ২১ বছরের, বয়স ৪০। সেজন্য স্বামী-স্ত্রী'র সম্পর্কের মধ্যে যে স্বাভাবিক ভারসাম্য তা রক্ষিত হয়নি। তিনি এও অভিযোগ করেন, বিবাহিত জীবন সুখের ছিল না। তাঁকে নির্যাতনের শিকারও হতে হয়েছে। এরপরই আদালতে তিনি জানিয়ে দেন, 'আমি স্বামীর সঙ্গে থাকতে চাই না। অনুজ কুমারের সঙ্গে থাকতে চাই। এটাই আমার ইচ্ছে।' 

কাউন্সেলিংয়েও বদলায়নি সিদ্ধান্ত

আদালত ওই তরুণীকে তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ দেয়।  তাঁর কাউন্সেলিংয়ের নির্দেশও দেয়। কিন্তু তাতেও সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন আসেনি। কাউন্সেলিংয়ের পরও তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন। তাঁর সঙ্গীও আদালতে আশ্বাস দেন, তিনি তরুণীর যত্ন নেবেন। নিরাপত্তাও দেবেন। একসঙ্গে থাকবেন। 

Advertisement

আদালতের রায়

এরপরই ঐতিহাসিক রায় দেয় বিচারপতি আনন্দ পাঠক ও বিচারপতি পুষ্পেন্দ্র যাদবের ডিভিশন বেঞ্চ। জানিয়ে দেওয়া হয়, এই ক্ষেত্রে তরুণীর মতামতই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু তিনি অনুজের সঙ্গে স্বইচ্ছায় ছিলেন, তাই অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ ভিত্তিহীন। মামলার ভিত্তিই টেকে না। আদালত তাঁকে তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে জানায়, 'একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোথায় এবং কার সঙ্গে থাকবেন, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে।' 

ছয় মাস নজরদারির নির্দেশ

তবে মামলার নিষ্পত্তির আগে আদালত কিছু নজরদারির ব্যবস্থাও করে।
আগামী ছয় মাস সেই তরুণীর খোঁজখবর নেওয়ার জন্য পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জানানো হয়, তিনি ঠিক আছেন কি না, নিরাপদে রয়েছেন কি না সেই ব্যাপারে মাঝে মাঝে খোঁজ নিতে হবে পুলিশকে। 


 
Read more!
Advertisement
Advertisement