
অযোধ্যার রাম মন্দির চত্বর ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শনিবার সকালে মন্দিরের দক্ষিণ প্রাচীরসংলগ্ন সীতা রসোই এলাকার কাছে নামাজ পড়ার চেষ্টা করার সময় এক কাশ্মীরি যুবককে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। সূত্রের খবর, কাশ্মীরি পোশাক পরে ওই যুবক গেট ডি-১ দিয়ে মন্দির চত্বরে প্রবেশ করেছিলেন।
আটক যুবকের নাম আহমেদ শেখ। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে বাধা দিলে তিনি স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে আশঙ্কায় সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থা, স্থানীয় পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক আধিকারিকরা দ্রুত তৎপর হন। যুবকটির উদ্দেশ্য কী ছিল, তিনি কীভাবে মন্দির চত্বরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর পেছনে কোনও সংগঠিত পরিকল্পনা ছিল কি না, সব দিক খতিয়ে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তবে জেলা প্রশাসন এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। রাম মন্দির ট্রাস্টও বিষয়টি নিয়ে নীরব রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় গুজব রুখতে ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
১৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে আমিষ খাবার ও হোম ডেলিভারি নিষিদ্ধ
এদিকে অযোধ্যার রাম মন্দির কমপ্লেক্সের চারপাশে ১৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে আমিষ খাবার বিক্রি ও হোম ডেলিভারির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাস রক্ষার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চকোশী পরিক্রমা এলাকায় অনলাইন খাদ্য সরবরাহকারী অ্যাপের মাধ্যমে নিষিদ্ধ এলাকার মধ্যে আমিষ খাবার পৌঁছে দেওয়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অনলাইন ডেলিভারি পরিষেবার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, কিছু হোটেল ও হোমস্টেতে অতিথিদের আমিষ খাবারের পাশাপাশি মদ পরিবেশন করার খবরও মিলেছে। এই ঘটনাগুলিকে গুরুতর বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এবং নিয়ম ভাঙলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মদের দোকান নিয়ে বিতর্ক
উল্লেখ্য, অযোধ্যা ও ফৈজাবাদকে সংযুক্ত করা ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রামপথের ধারে মাংস ও মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অযোধ্যা পৌর কর্পোরেশন। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ, মাংসের দোকান সরানো হলেও মদের দোকান এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এই প্রসঙ্গে এক পৌর আধিকারিক জানান, মাংসের দোকান অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে মদের দোকানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন হওয়ায় প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।