Advertisement

ট্রেন লেট হওয়ায় পরীক্ষা মিস, পড়ুয়াদের মামলা, বিশাল ফাইন দিতে হবে রেলকে

রেলের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১১টার মধ্যে ট্রেনের লখনউ পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে ট্রেন পৌঁছয় প্রায় আড়াই ঘণ্টা দেরিতে। ফলে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি সমৃদ্ধির। এক মুহূর্তে হাতছাড়া হয়ে যায় তাঁর নিট পরীক্ষা, কার্যত নষ্ট হয়ে যায় একটি গোটা বছর।

Aajtak Bangla
  • লখনউ,
  • 26 Jan 2026,
  • अपडेटेड 4:10 PM IST

দেশজুড়ে ট্রেনের দেরি নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ নতুন নয়। কিন্তু সেই দেরির জেরে যদি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা মিস হয়ে যায়? উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার এক ছাত্রী ঠিক সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। আর সাত বছর লড়াই চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় রেলকে আদালতে হারিয়ে বড়সড় ক্ষতিপূরণ আদায় করলেন তিনি।

ঘটনাটি ২০১৮ সালের। বস্তি জেলার কোতয়ালি থানা এলাকার পিকৌরা বক্স মহল্লার বাসিন্দা সমৃদ্ধি নিট (NEET) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারিত হয়েছিল লখনউয়ের জয়নরায়ণ পিজি কলেজে। পরীক্ষায় বসতে তিনি বস্তি থেকে ইন্টারসিটি সুপারফাস্ট ট্রেনের টিকিট কাটেন।

রেলের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১১টার মধ্যে ট্রেনের লখনউ পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে ট্রেন পৌঁছয় প্রায় আড়াই ঘণ্টা দেরিতে। ফলে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি সমৃদ্ধির। এক মুহূর্তে হাতছাড়া হয়ে যায় তাঁর নিট পরীক্ষা, কার্যত নষ্ট হয়ে যায় একটি গোটা বছর।

আরও পড়ুন

এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও হাল ছাড়েননি সমৃদ্ধি। তাঁর আইনজীবী প্রভাকর মিশ্রের মাধ্যমে জেলা উপভোক্তা কমিশনে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলায় রেল মন্ত্রক, রেলের মহাপ্রবন্ধক এবং সংশ্লিষ্ট স্টেশন সুপারিনটেনডেন্টকে নোটিস পাঠানো হলেও কোনও সন্তোষজনক জবাব মেলেনি। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা শুরু হয়।

দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা শুনানিতে আদালত ট্রেন দেরির বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করলেও দেরির সঠিক কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেনি তারা। সব দিক বিচার করে জেলা উপভোক্তা কমিশনের সভাপতি বিচারপতি অমরজিৎ ভার্মা এবং সদস্য অজয় প্রকাশ সিং রেলকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

চূড়ান্ত রায়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, রেলকে ৪৫ দিনের মধ্যে সমৃদ্ধিকে ৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে সেই অর্থের উপর ১২ শতাংশ হারে সুদ গুনতে হবে রেলকে।

এই রায় নিছক ক্ষতিপূরণের নির্দেশ নয়, বরং ট্রেনের দেরি নিয়ে রেলের দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন বার্তা বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞদের একাংশ।

Advertisement

 

Read more!
Advertisement
Advertisement