
১২ দিনে পড়ল ইরান বনাম ইজরায়েল, আমেরিকা যুদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালী। তাই অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে ভারতে পেট্রোল, ডিজেলের মতো জ্বালানির সঙ্কট তৈরি হতে পারে। যদিও বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে এই দাবি উড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি দাবি করেন, ভারতে কোনও রকম জ্বালানি সঙ্কট নেই।
পাশাপাশি তিনি জানান, সরকার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। দেশের সর্বত্র যাতে জ্বালানি পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের স্টেপ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, 'সরকারের নিদিষ্ট বিভাগ সব দিক খতিয়ে দেখছে যাতে জ্বালানির অভাব না হয়।'
আর বাণিজ্যমন্ত্রীর এই দাবির পরই কিছুটা হলেও আশায় বুক বাঁধতে পারে সাধারণ মানুষ। খুব শীঘ্রই যে তেল সঙ্কট যে হবে না, সেটা আশা করা যায়।
যদিও পীযূষের এই দাবি মানতে নারাজ অনেক পক্ষই। তাদের মতে, ইতিমধ্যেই দেশে পেট্রোল, ডিজেল এবং LPG নিয়ে হাহাকার শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষত, LPG গ্যাস নিয়ে সমস্যা চরমে। যার ফলে ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরু, মুম্বই, চেন্নাই এবং লখনউতে বন্ধ হয়েছে অসংখ্য রেস্তোরাঁ। LPG না পাওয়ার ফলে তারা কাজ করতে পারছে না বলে দাবি করা হয়েছে।
আর খারাপ অবস্থা কলকাতারও। এখানে এখনও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়নি ঠিকই। তবে LPG সংকট চলছে। যার ফলে আর কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কাজেও কোনও ত্রুটি রাখতে চাইছে না সরকার বলেই দাবি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সরকারের নির্দেশ মতো দেশের ৩ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উৎপাদনকারী সংস্থা নিজেদের প্রোডাকশন বাড়িয়েছে। এছাড়া বাণিজ্য ক্ষেত্রেও LPG ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমেই বাড়ি বাড়ি গ্যাস পৌঁছে দিতে চাইছে সরকার।
ও দিকে আবার নতুন একটা প্ল্যানও করেছে ভারত। এক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য থেকে LPG নির্ভরতা কমাতে চাইছে। তার বদলে অস্ট্রেলিয়া, আলজেরিয়া এবং কানাডা থেকে গ্যাস কিনছে ভারত। তাতেও তেলের সঙ্কট মিটতে পারে বলে খবর।
যদিও একটা কথা বলে রাখি, আপাতত যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার কোনও ইঙ্গিত নেই। এই যুদ্ধ আরও কিছুদিন চলতে পারে বলেই খবর। আর সেটাই বিপদ বাড়াতে পারে ভারতের মতো দেশের।