
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘পরীক্ষা পে চর্চা’–র নবম সংস্করণে দেশজুড়ে পড়ুয়া, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করলেন। গুজরাটের দেবমোগরা, তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর, ছত্তিশগড়ের রায়পুর, আসামের গুয়াহাটি এবং দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গের সরকারি বাসভবন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
পরীক্ষার চাপ, সময় ব্যবস্থাপনা, আত্মবিশ্বাস ও জীবনের লক্ষ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'নম্বর এখন এক ধরনের রোগে পরিণত হয়েছে। টপারদের নামও মানুষ মনে রাখে না। তাই নম্বরের পিছনে না ছুটে জীবন কেমন হওয়া উচিত, সেই দিকেই মনোযোগ দেওয়া দরকার।'
সময় ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে মোদী বলেন, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পরদিনের কাজ ডায়েরিতে লিখে রাখা উচিত। দিনের শেষে কোন কাজ হয়েছে, কোথায় সময় নষ্ট হয়েছে, তা নিজেই বিশ্লেষণ করলে সময়ের সদ্ব্যবহার করা সম্ভব।
গেমিং নিয়ে তিনি বলেন, শুধু বিনোদনের জন্য গেম খেলা যথেষ্ট নয়। গেমিংকে দক্ষতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং নতুন গেম তৈরির দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
দ্বাদশ শ্রেণির সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে দ্বাদশ শ্রেণির ভিত্তি মজবুত করা দরকার। তাড়াহুড়ো না করে পড়ুয়াদের বিকশিত হওয়ার জন্য সময় দেওয়া উচিত।
দক্ষতা বনাম নম্বর প্রসঙ্গে মোদী বলেন, জীবনে ভারসাম্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জীবন দক্ষতা ও পেশাদার দক্ষতা, দুটোই সমানভাবে গড়ে তুলতে হবে। ঘুম, শরীরচর্চা ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও শিক্ষারই অংশ।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দেন, পড়ুয়াদের থেকে খুব বেশি এগিয়ে না গিয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকা উচিত। আগাম পাঠ্যসূচি জানালে পড়ুয়াদের আগ্রহ বাড়ে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পড়াশোনার নির্দিষ্ট কোনও একমাত্র প্যাটার্ন নেই। প্রত্যেকের নিজের অভিজ্ঞতা ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী পড়াশোনার ধরণ ঠিক করা উচিত।
উল্লেখ্য, ‘পরীক্ষা পে চর্চা ২০২৬’ ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়তার নতুন রেকর্ড গড়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ছাড়িয়ে এই বছর অনলাইন নিবন্ধনের সংখ্যা ৪ কোটিরও বেশি ছুঁয়েছে। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর MyGov পোর্টালে নিবন্ধন শুরু হয়েছিল।