
মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লোকসভায় ভাষণ দিলেন। সংসদে তিনি এই সংঘাতের মধ্যে ভারতীয়দের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর রূপরেখা তুলে ধরেন। মোদী উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে রসদ সরবরাহের বর্তমান চ্যালেঞ্জটি বড় প্রতিবন্ধকতা।
পশ্চিম এশিয়ায় তিন সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার লোকসভায় জাতিকে আশ্বস্ত করেছেন,পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। সরকার এই অত্যাবশ্যকীয় জ্বালানিগুলির কোনও ঘাটতি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। লোকসভায় পশ্চিম এশিয়ার সংকট নিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, দেশ ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে, কিন্তু আমরা নিশ্চিত করেছি,সারাদেশে পেট্রোল এবং ডিজেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। গ্যাসের সরবরাহেও কোনও ঘাটতি হবে না।
প্রধানমন্ত্রী মোদী উল্লেখ করেছেন , গত এক দশকে ভারতের জ্বালানি আমদানিতে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য এসেছে। আগে ভারত মাত্র ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করত। আজ সেই সংখ্যা বেড়ে ৪১-এ দাঁড়িয়েছে। সরকার বিভিন্ন সরবরাহকারীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং যেখান থেকে সম্ভব তেল, গ্যাস ও সার আমদানি করছে। তিনি বলেন, আমাদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (SPR) ৫৩ লক্ষ টনের বেশি এবং এটিকে ৬৫ লক্ষ টনে উন্নীত করার জন্য দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। তেল কোম্পানিগুলোর নিজস্ব মজুদ রয়েছে। আমরা যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রী মোদী আশ্বাস দিয়েছেন, কোনও বাধা ছাড়াই জনগণের জ্বালানির চাহিদা মেটানোই সরকারের অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী মোদী লোকসভায় জানিয়েছেন, কৃষকদের ২২ লক্ষেরও বেশি সৌর পাম্প সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে ডিজেলের ওপর তাদের নির্ভরতাও কমেছে। সরকার কৃষকদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। গ্রীষ্মকাল আসন্ন এবং আগামী সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে সরবরাহ পর্যন্ত সমস্ত ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রেনুয়াল বা নবায়নযোগ্য শক্তিও এক্ষেত্রে সাহায্য করেছে। দেশ উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে, যার অর্ধেকই এসেছে রেনুয়াল উৎস থেকে। গত ১১ বছরে দেশ তার সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ১০০ গিগাওয়াটের বেশি করেছে। গোবর্ধন যোজনার অধীনে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টও চালু হয়েছে। এই সমস্ত প্রচেষ্টা আজ ফলপ্রসূ হচ্ছে। সরকার পারমাণু শক্তিকেও উৎসাহিত করছে। আগামী পাঁচ বছরে ১,৫০০টি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করা হবে।
মোদী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদায় পশ্চিম এশিয়ার একটি বড় অবদান রয়েছে। বর্তমান সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকার এর স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মোকাবেলায় কৌশলগতভাবে কাজ করছে। আমরা সকল স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করছি। যেখানেই প্রয়োজন, সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় দল গঠন করা হয়েছে, যা প্রতিদিন বৈঠক করে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হব। ভারতে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য রয়েছে। খরিফ মরসুমের বীজ সঠিকভাবে বপন করা যাবে। সরকার পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা করেছে। আমরা আগেও সংকটের কারণে কৃষকদের ওপর বোঝা চাপাতে দিইনি। বিশ্ববাজারে এক বস্তা ইউরিয়ার দাম ৩,০০০ টাকায় পৌঁছেছিল, কিন্তু সেই একই বস্তা ভারতীয় কৃষকদের কাছে ৩০০ টাকারও কম দামে বিক্রি হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, 'দেশের কৃষকদের সংকট থেকে রক্ষা করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ১০ বছরে ছয়টি ইউরিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে। তেল ও গ্যাসের মতোই সারের আমদানিতেও বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে, কিন্তু কয়লার মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। সমস্ত ব্যবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।'