
সংসদের বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বক্তব্যের জবাবি ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। লোকসভা মুলতুবি হলে বৃহস্পতিবার তিনি ভাষণ দিতে আসেন। এদিকে, রাহুল গান্ধী এখনও ডোকলাম ইস্যু নিয়ে নিজের বক্তব্যে অনড়। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বই উদৃত করতে তাঁকে বাধা দেওয়া হলেও এদিন সেই বই তিনি সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন। প্রধানমন্ত্রী নারাভানের সেই বইটি উপহার দেবেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। মোদী বক্তব্য পেশ করা শুরু করতেই ওয়াক আউট করে বিরোধীরা। তুমুল হট্টগোল শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, তাঁর সরকার বিকশিত ভারতের ভিত তৈরি করছে, আর সেই সময় কংগ্রেস নাকি ব্যস্ত রয়েছে “মোদীর কবর খোঁড়ার” কর্মসূচি করতে। তিনি বলেন, যারা মুখে বলে “মোহব্বতের দোকান” খুলেছে, তারাই আবার স্লোগান দেয়, “মোদী তেরি কবর খুদেগি”। প্রশ্ন তুলে মোদী বলেন, এ কোন ধরনের মোহব্বত, যেখানে দেশের একজন নাগরিকের কবর খোঁড়ার কথা বলা হয়? এটা কি সংবিধানের অপমান নয়? প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এত কিছুর পরেও এরা আবার বলবে, দেখো, প্রধানমন্ত্রী রাজ্যসভাতেও নাকি কাঁদছিল। তিনি দাবি করেন, ২০০২ সাল থেকে ২০১৪, এমনকি গত ২৫ বছরে সংসদের এমন একটা অধিবেশনও যায়নি, যেখানে তাঁকে গালিগালাজ করা হয়নি। একবার কেউ তাঁর সুস্থ থাকার রহস্য জানতে চাইলে তিনি মজা করে বলেছিলেন, “আমি প্রতিদিন দুই কেজি করে গালি খাই।” মোদী বলেন, “মোদীর কবর খোঁড়ার” এই কথা কোনও স্লোগান নয়, এটা আসলে ওদের মনের ভেতরের ঘৃণার প্রতিফলন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁর কবর খোঁড়ার কথা বলা হচ্ছে? কারণ তাঁর সরকার ৩৭০ ধারা ভেঙে দিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতে বোমা-বারুদের ছায়া সরিয়ে উন্নয়নের পথে এনেছে। কারণ পাকিস্তানি জঙ্গিদের ঘরে ঢুকে জবাব দেওয়া হয়েছে, অপারেশন চালানো হয়েছে। মাওবাদী সন্ত্রাস থেকে দেশকে মুক্ত করতে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নেহরুজি দেশের সঙ্গে এক সময় বড় অন্যায় করেছিলেন, সেই অন্যায় আমরা বাতিল করেছি। এই কারণেই কি কবর খোঁড়ার কথা বলা হচ্ছে?
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "যারা মোহব্বতের দোকান খুলেছিল তারা এখন মোদীর কবর খোঁড়ার স্লোগান দিচ্ছে। এটা কেমন মোহব্বতের দোকান যেখানে এই দেশের একজন নাগরিকের কবর খোঁড়ার কথা বলা হচ্ছে? এটা কি সংবিধানের অপমান নয়?"
'গান্ধীরা মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর পদ ওদের পারিবারিক সম্পত্তি। সেজন্য ওরা হিংসা করে। অন্য কেউ এই আসনে বসলে সহ্য করতে পারে না। দেশ তো কংগ্রেসকে সুযোগ দিয়েছে। তা কাজে লাগাতে পারেনি।'
'আমরা এখন বিকশিত ভারতের জমি তৈরি করছি। আর কংগ্রেস মোদীর কবর খোঁড়ার চেষ্টা করছে।' বললেন মোদী। রাহুল গান্ধীকেও আক্রমণ করেন তিনি। এটা সংবিধানের অপমান, বললেন নমো।
PM মোদী কটাক্ষ করে বলেন, "কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির অপমান করেছে। কাল লোকসভার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। কংগ্রেসের হতাশা, নিরাশা বুঝতে পারে। সেজন্য দেশের পবিত্র মন্দিরকেই এই রূপে পরিণত করা খুবই অন্যায়। আমাদের স্পিকারের সামনে কাগজ ফেলে, টেবিলে উঠে পড়ে। এটা নর্থ-ইস্টের অপমান, অসমের অপমান। অন্ধ্রেরও স্পিকারকেও অপমান করে।"
কংগ্রেসকে নিশানা করে মোদী বললেন, গতকাল লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ জ্ঞাপন ভাষণ দেওয়া যায়নি। এটা রাষ্ট্রপতির প্রতি বড় অপমান। আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা একজন মহিলাকে আপনারা যেভাবে আপমান করলেন, তা আদিবাসী, মহিলা ও সংবিধানের অপমান।
তিনি বলেন, "আমাদের দেশের একজন নেতা হিমাচল প্রদেশ সফরে ছিলেন। সেখান থেকে ফিরে আসার পর তিনি নিজেই এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। নেতা বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের সঙ্গে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করতে হয়েছে। যেহেতু তারা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করতে অনিচ্ছুক ছিল, তাই আমরা যুক্তি দিয়েছিলাম যে পাহাড়ি অঞ্চলে আমাদের কর্মীদের জিপের নয়, খচ্চরের প্রয়োজন। তারা বলেছিল, কেবল জিপের দাম দেবে, খচ্চরের নয়। সেই সময় কোনও রাস্তা ছিল না। এই ভাষণটি ইন্দিরা গান্ধীর। দীর্ঘ কংগ্রেস শাসনকালে এই ছিল আচরণের ধরণ। ইন্দিরা গান্ধী জেনেও এটি সংস্কারের জন্য কোনও পদক্ষেপ নেননি। তাঁর নিজের বাবা ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিষ্ঠাতা যা তিনি ভেঙে ফেলছিলেন। ২০১৪ সালের মধ্যে, সবাই চিন্তিত ছিল, কিন্তু সংস্কার করতে অনিচ্ছুক ছিল। ২০১৪ সালে যখন আমরা সুযোগ পেলাম, তখন আমরা সেই কমিশন বাতিল করে নীতি আয়োগ তৈরি করি, যা আজ দ্রুত গতিতে কাজ করছে।"
'কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির ভাবনাচিন্তার ফারাক অনেক। আমাদের দেশের মানুষের প্রতি আস্থা আছে। কিন্তু কংগ্রেস তো এত মানুষকে সমস্যা বলে মনে করে।' দাবি করলেন মোদী।
'আমার জন্মেরও আগে নর্মদা নদীতে বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন বল্লভভাই প্যাটেল। শিলান্যাস করেছিলে জওহরলাল নেহরু। আর সেই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলাম আমি। কংগ্রেস তো এমন একটা দল যারা কোনও কাজ বাস্তবায়িত করেনি।'
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বললেন, আমাদের থামার কোনও জায়গা নেই, পিছনে ফিরে তাকানোরও সময় নেই। লক্ষ্য স্থির। সেটা অর্জন করেই এগোতে হবে। তাঁর কথায়, দেশ এখন উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছচ্ছে। মোদীর বক্তব্য, আজ বিশ্বজুড়ে ভারতের প্রতি আকর্ষণ অনেক বেড়েছে। দুনিয়া এখন ভরসার চোখে ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে। দেশ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, অথচ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে—এই দুটো একসঙ্গে খুব কম দেশেই দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, একটা সময় ভারতকে ‘ফ্রেজাইল ফাইভ’ অর্থনীতির তালিকায় রাখা হত। সেখান থেকে দেশকে আমরা তুলে এনে আজ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি বানিয়েছি, আর খুব শিগগিরই তৃতীয় স্থানে পৌঁছনোর পথেই এগোচ্ছি। একবিংশ শতাব্দীর প্রথম কোয়ার্টার শেষ হয়ে গেছে। এখন দ্বিতীয় কোয়ার্টার শুরু হয়েছে, আর এই সময়টাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যেমনভাবে গত শতাব্দীতে স্বাধীনতা আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব ছিল ভারতের ভবিষ্যতের জন্য নির্ণায়ক, ঠিক তেমনই এখন এই সময়টা বিকশিত ভারতের নির্মাণে সবচেয়ে শক্তিশালী ও গতিময় অধ্যায় হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ দেশের প্রতিটি নাগরিকই অনুভব করছেন, আমরা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি। এখন থামার সুযোগ নেই, পিছনে ফিরে তাকানোরও প্রশ্ন নেই। দ্রুতগতিতে এগোতেই হবে, আর লক্ষ্য পূরণ করেই সামনে যেতে হবে। সেই পথেই দেশ এগোচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলির জনসংখ্যা আজ ক্রমশ বয়স্ক হয়ে যাচ্ছে। সেখানে মানুষের গড় বয়স অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু ভারতের চিত্র একেবারে আলাদা। একদিকে দেশ উন্নয়নের নতুন শিখরে পৌঁছচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিদিনই ভারত আরও বেশি যুবশক্তিতে ভরপুর দেশ হয়ে উঠছে।
PM মোদী এদিন বলেন, "আমরা প্ল্যানিং কমিশন বাতিল করে নীতি আয়োগ এনেছি। আজ দারুণ কাজ হচ্ছে। কংগ্রেস কোনও বদল দেখতে পায় না।"
PM মোদী বলেন, "কংগ্রেসের সময় কৃষকদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ছোট কৃষকদের দিকে নজরই দেওয়া হত না। পিএম কিষাণ সন্নিধি যোজনায় ছোট কৃষকদের লাভবান করেছে। দেশে ১০ কোটি কৃষক আছে যাদের কাছে ২ হেক্টর জমিও নেই। তাদের জন্যও কংগ্রেস কাজ করেনি। আমরা ছোট কৃষকদের কথা ভেবেছি। ৪ লক্ষ কোটি টাকা দিয়েছি।"
'দেশে ১০ কোটি এমন কৃষক আছে যাদের কাছে ২ হেক্টর জমিও নেই। তাদের জন্যও কংগ্রেস কাজ করেনি। আমরা ছোট কৃষকদের কথা ভাবি। ৪ লাখ কোটি টাকা দিয়েছি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।' বললেন নমো।
মোদীর কথায়, আজ সারা দুনিয়াই যেন ঠিকঠাক সামলাতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে খুব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ব একটা নতুন গ্লোবাল অর্ডারের দিকে, এক নতুন ওয়ার্ল্ড অর্ডারের দিকে এগোচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে বিশ্বব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, এখন সেটা বদলে গিয়ে নতুন এক ব্যবস্থার জন্ম হচ্ছে। দুনিয়া খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। এই সব ঘটনা যদি আমরা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বাদ দিয়ে, নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখব, বিশ্ব এখন ভারতের দিকেই ঝুঁকে। আজ ভারত শুধুমাত্র নিজের জন্য নয়, বিশ্ববন্ধু হিসেবে সামনে এসেছে। বহু দেশের কাছে আজ ভারত একটি ভরসাযোগ্য পার্টনার। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্বকল্যাণের কাজ করছি, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যও করে চলেছি। আজ গোটা বিশ্ব যখন গ্লোবাল সাউথ নিয়ে আলোচনা করছে, তখন সেই আলোচনার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের কণ্ঠস্বর সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে। একাধিক দেশের সঙ্গে আজ ভারত ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ফিউচার-রেডি ট্রেড ডিল করছে। গত কিছুদিনের মধ্যেই বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে ভারতের ট্রেড ডিল হয়েছে—ছোট দেশ হোক বা বড় দেশ। আর তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কথা, একসঙ্গে ২৭টি দেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ট্রেড ডিল। এটা কোনও ছোট ঘটনা নয়। বিরোধীদের ওয়াক-আউট নিয়ে মোদীর কটাক্ষ, যাঁরা আজ ক্লান্ত হয়ে মাঝপথে উঠে চলে গেছেন, তাঁদের একদিন না একদিন জবাব দিতেই হবে। দেশকে এমন অবস্থায় কেন রেখে গিয়েছিলেন, যেখানে বিশ্বের কোনও দেশ ভারতের সঙ্গে ডিল করতে আগ্রহ দেখাত না। হয়তো তাঁরা পিছনে পিছনে অনেক দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন, অনেক দরজায় ঘুরেছিলেন, কিন্তু কেউ তাঁদের দিকে ফিরেও তাকায়নি। আজ প্রশ্ন উঠছে, তখন এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে বিশ্বের দেশগুলো ভারতের সঙ্গে ডিল করতে চাইত না?
মোদী বলেন, "NPA-কে নিম্নস্তরে নিয়ে এসেছে। ব্যাঙ্কের পারফরম্যান্স আজ শীর্ষে। আমরা PSU নিয়ে মানসিকতা বদলে দিয়েছি। রেকর্ড হারে উন্নতি করছে। যে PSU কংগ্রেস তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছিল, আজ সেগুলি লাভ করছে। মেক ইন ইন্ডিয়ার স্বপ্নপূরণ করছে PSU। আজ PSU থেকে বড় বড় ডিল আসছে।"
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে শুরু করে আমেরিকা, সাম্প্রতিক একাধিক ট্রেড ডিলের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বললেন, সারা দুনিয়া এখন ভারতের সঙ্গে হওয়া ট্রেড ডিলের প্রশংসা করছে। বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা নিয়ে এতদিন উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই কমেছে। এর ফলে ভারতের যুবসমাজের জন্য বিশ্বের বাজার খুলে গিয়েছে। আলোচনার মান আরও ভাল হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বিরোধীরা সেই সুযোগ নষ্ট করেছে। তাঁর কথায়, 'বিরোধীদের এই মনোভাব দেখলে দেশ কীভাবে তাদের উপর ভরসা করবে?' বিরোধীদের আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁরা আজ অর্থনৈতিক বৈষম্যের কথা বলছেন, তাঁরাই আবার নিজেদের ‘রাজা’ বলে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করেন। টিএমসি-সহ কয়েকটি দলের দিকে ইঙ্গিত করে মোদীর মন্তব্য, এখানে কিছু মানুষ উপদেশ দিচ্ছেন, অথচ নিজেরাই নিষ্ঠুর শাসনের সব মানদণ্ড পূরণ করছেন। মোদীর অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে আদালত পর্যন্ত দৌড়ঝাঁপ করা হচ্ছে। অথচ এই অনুপ্রবেশকারীরাই দেশের যুবকদের রুজি-রোজগার কেড়ে নিচ্ছে, আদিবাসীদের জমি দখল করছে। আর সেই লোকেরাই এসে সংসদে নীতিকথা শোনাচ্ছেন। কিছু বিরোধী নেতাকে কটাক্ষ করে মোদী বলেন, যাঁদের পুরো সরকার মদে ডুবে ছিল, তাঁরাও আজ অনেক কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রীর কড়া মন্তব্য, 'আর কতদিন দেশ আর দুনিয়াকে ঠকাবেন? আয়নায় তাকালে নিজের সত্যিটা আর কোথায় লুকোবেন?' মোদীর বক্তব্য, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে ও বাম দলগুলি বহু বছর ধরে কেন্দ্রের ক্ষমতায় ছিল বা ক্ষমতার শরিক ছিল। রাজ্যেও সরকার চালানোর সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু তখন সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার বদলে তাদের অগ্রাধিকার ছিল নিজের পকেট ভরানো।
তৃণমূল অনেক কথা বলেছে। একটা নির্মম সরকারের যা যা প্যারামিটার থাকা উচিত, সব করেছে ওরা। আর ওরা এখানে উপদেশ দিচ্ছে। বাংলার মানুষের ভবিষ্যৎ ডুবছে অন্ধকারে। ওরা এখানে উপদেশ কেন দেয়? দুনিয়ার বড় বড় দেশও অবৈধ নাগরিকদের নিজেদের সীমা থেকে বের করে দিচ্ছে। আর ওরা ওদের বাঁচানোর জন্য আদালতে যাচ্ছে, চাপ তৈরি করছে। এটা কাম্য? এতে দেশের যুবক-যুবতীদের অধিকার সুরক্ষিত থাকছে না। আদিবাসীদের জমি খোয়া যাচ্ছে। কোনও নীতি নেই ওদের। তারপরও উপদেশ দেয় কোন মুখে? , তৃণমূলকে আক্রমণ মোদীর
TMC-কে আক্রমণ করে PM মোদী বলেন, "তৃণমূলের সাথীরা অনেক কিছু বলেছে। আমাদের উপদেশ দিচ্ছে। তারা নির্মম সরকারের সব প্যারামিটার পূরণ করছে। এখানে উপদেশ দিচ্ছে। এই নির্মম সরকার মানুষের ভবিষ্যত ডোবাচ্ছে। তাতে ওনাদের কোনও পরোয়া নেই। দুনিয়ার সমৃদ্ধ দেশগুলিও অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দিচ্ছে। আর তৃণমূল ওদের ওকালতি করছে। এদের কীকরে মাফ করবে? নতুন প্রজন্মের রুজিরুটি ছিনিয়ে নিচ্ছে। অধিকার, চাকরি ছিনিয়ে নিচ্ছে।"
মোদী বলেন, 'ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা আমেরিকার সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এতে বিশ্বের নানা দেশ ভারতের প্রতি আরও বিশ্বাস বাড়িয়েছে। এতে সবথেকে বেশি লাভবান দেশের যুবক-যুবতীরা হবে। গ্রাম-শহর সব জায়গায় নতুন প্রজন্ম লাভ পাবে। তাদের জন্য গোটা বিশ্বের বাজার এখন খুলে গিয়েছে। আমরা তাদের স্বাগত জানাচ্ছি।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ইউরোপের সঙ্গে ট্রেড ডিলের পর সকলে ভরসা পেয়েছে। সকলে প্রশংসা করেছে। আমেরিকার সঙ্গে ট্রেড ডিল হওয়ার পর ভরসা আরও বেড়ে যায়। এতে নতুন প্রজন্মকে উন্নিত করবে।"