
ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য এই চুক্তির পর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, আমেরিকার শর্ততে আপস করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি চাপে আছেন। দেশকে বেচে দিয়েছেন। তাহলে কি ট্রেড ডিল কৃষক ও ডেয়ারি মার্কেটের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াল? এদিন লোকসভায় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এ নিয়ে বক্তব্য পেশ করেন। তাতে তিনি জানান, এই ট্রেড ডিল ভারতের কৃষক ও ডেয়ারি মার্কেটের জন্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। আলোচনার সময়, ভারত তার স্বার্থ রক্ষা করেছে, বিশেষ করে কৃষি ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের মতো সংবেদনশীল খাতে। এক বছরের আলোচনার পর, দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্র চূড়ান্ত করতে সফল হয়েছে।
মার্কিন চুক্তিতে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পীযূষ গোয়েল বলেন, "২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর মার্কিন সফরের পর, উভয় পক্ষের আলোচনা হয়েছে। ভারত তাদের সংবেদনশীল বিষয়গুলি রক্ষা করতে সফল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীও ট্রাম্পের সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা বলেছেন। এর পরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করে। এই শুল্ক হার অনেক দেশের উপর আরোপ করা শুল্কের চেয়ে কম। কৃষি ও দুগ্ধ খাতে ভারত সফল হয়েছে। ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের পরিপূরক অর্থনীতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথ্য এবং শক্তির ক্ষেত্রে একটি শীর্ষস্থানীয় দেশ। আমাদের এই সেক্টরগুলিতে মনোযোগ দেওয়া অপরিহার্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানিও অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে এই চুক্তি উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করবে। এটি ভারতের স্বার্থে এবং দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা বয়ে আনবে।"
বাণিজ্য মন্ত্রী জানান, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে টেলিফোনে কথোপকথন হয়। ট্রাম্প তারপর ১৮ শতাংশে শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা করেন। পীযুষ গোয়েল এও বলেন, এই শুল্ক অন্য অনেক প্রতিযোগী দেশের চেয়ে কম। এই হার ভারতীয় রফতানিকারকদের একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা প্রদান করবে।
ভারতের জন্য সেরা চুক্তি
এর আগে, তিনি মঙ্গলবার চুক্তির বিস্তারিত বর্ণনা দিতে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই চুক্তিটি ভারতের অর্থনীতিকে সত্যিই চাঙ্গা করবে। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের জন্যই প্রধানমন্ত্রী মোদী বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করেছেন। সমস্ত প্রতিবেশী এবং প্রতিযোগীদের এটিই সেরা চুক্তি। এটি দেশবাসীর জন্য শুভ লক্ষণ বলেও দাবি করেন।