
যে আশঙ্কা ছিল, সেটাই সত্যি হতে চলেছে। ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে যে ভয়াবহ মন্দা আসতে চলেছে, তা স্পষ্ট করেই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে বলতে গিয়ে করোনার সেই কঠিন অবস্থার প্রসঙ্গ টানলেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ অর্থাত্ সোমবার লোকসভায় ইরান যুদ্ধের ভারতে প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত জানালেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতেরও অবস্থান সম্পর্কে মোদী বললেন, 'কূটনীতি নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। ভারত পশ্চিম এশিয়ার সব দেশকেই ফোন করে যুদ্ধ থামানোর কথা বলেছে। এই যুদ্ধে কারও জীবনের সঙ্কট, মানবতার পক্ষে নয়। ভারতের চেষ্টা হল, শান্তিপূর্ণ সমাধান। কূটনীতিই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।'
আসন্ন সঙ্কটের আভাস স্পষ্ট করলেন মোদী
এরপরেই যুদ্ধের আসন্ন প্রভাব নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকা ও শান্ত থাকার বার্তা দিলেন মোদী। বললেন, 'এই যুদ্ধের জেরে দুনিয়াজুড়ে যে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে জারি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় আমাদের তৈরি থাকতে হবে ও আমাদের একজোট থাকতে হবে।' এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই করোনার সময়ের সেই কঠিন পরিস্থিতির কথা তুললেন তিনি।
বললেন, 'আমরা করোনার সময়েও একজোট হয়ে এই রকম চ্যালেঞ্জ সামলেছি। আবার ওই রকম ভাবেই তৈরি থাকার সময় ও আবশ্যিকতা এসেছে। ধৈর্য ধরে শান্ত মনে সব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা আমাদের করতে হবে। এটাই আমাদের শক্তি। আমাদের অনেক সাবধান ও সতর্কও থাকতে হবে। এই ধরনের পরিস্থিতির ফায়দা তুলতে পারে, এমন অসাধু লোকের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমি দেশের সব রাজ্যের কাছে আবেদন করছি, এই ধরনের পরিস্থিতিতে কালোবাজারি অ্যাক্টিভ হয়ে যায়।'
ভারতের কাছে বর্তমানে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম
বস্তুত, কেন্দ্র বারবার আশ্বাস দিচ্ছে, এলপিজি নিয়ে দেশে কোনও সঙ্কট নেই। পর্যাপ্ত রান্নার গ্যাস রয়েছে। তা সত্ত্বেও বাণিজ্যিক গ্যাসের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এর মূল কারণ কালোবাজারি। ইতিমধ্যেই কালোবাজারি রুখতে পশ্চিমবঙ্গ সহ সব রাজ্যে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। তবুও কৃত্রিম ভাবে তৈরি এই সঙ্কট তৈরি করার চেষ্টা চলছে। মোদী জানালেন, ভারতের কাছে বর্তমানে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম মজুত রয়েছে। পাশাপাশি, ভারত ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। ফলে এক বা একাধিক উৎসে সমস্যা হলেও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। তার মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। তাঁর কথায়, 'যে অঞ্চলে এই সংঘাত চলছে, সেই অঞ্চল বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশেষ করে আমাদের অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের বড় অংশ এই পথ দিয়েই আসে।'