
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে রামপ্রসাদী গান শেয়ার করে ফের কালীশরণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। বিখ্যাত এই শ্যামাসঙ্গীতটি গেয়েছেন সোহিনী মুখোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী গানটি শেয়ার করে লিখেছেন, 'মায়ের পুজো ভক্তদের মনে নতুন সাহস ও আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। তাঁর উপাসনা মানুষকে নতুন শক্তি ও উৎসাহে ভরিয়ে তোলে।' যে বিজেপি ‘জয় শ্রীরাম’-এ অভ্যস্ত তাদের শীর্ষনেতার কালী-শরণ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত অনেকের। বাঙালি অস্মিতা ছুঁতেই এই বদল বলে মনে করছেন তাঁরা।
সম্প্রতি রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তৃতায় ‘জয় শ্রীরাম’ আর ‘জয় মা কালী’-ধ্বনিতে ফারাক নেই বলে সরব হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। গত বছর জুলাই মাসে দুর্গাপুরের সভায় মোদীর মুখে ‘জয় মা কালী’, ‘জয় মা দুর্গা’ ধ্বনি শোনা গেলেও এক বারের জন্যও ‘জয় শ্রীরাম’ উচ্চারণ করেননি। তখন তা নিয়ে কটাক্ষ করে তৃণমূল বলেছিল, বাংলায় পরিবর্তনের ডাক দিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীরই পরিবর্তন হয়ে গেল।
গত মাসে বঙ্গ সফরে এসে অমিত শাহ পুজো দিয়েছিলেন কলকাতার ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে। বিজেপি শীর্ষনেতৃত্বের এই কালী-শরণ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ব্রিগেডে মোদীর সভাও হয়েছিল দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে।
ফেব্রুয়ারির শুরুর দিক থেকে রাজ্যে ‘গৃহ সম্পর্ক অভিযান’ শুরু করেছিল বিজেপি। সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারাভিযান চলছে। ই কর্মসূচির মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রীর লেখা খোলা চিঠি তুলে দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের সাধারণ ভোটারদের হাতে। চিঠিটির শুরুই হয়েছে, ‘আমার প্রিয় পশ্চিমবঙ্গবাসী’ দিয়ে। তার পরেই ‘জয় মা কালী’ লিখে চিঠির মূল বয়ান শুরু করেছেন মোদী।
ইদানিং রাজ্যে এলেই তাৎপর্যপূর্ণভাবে মোদীর মুখে কালীনাম শোনা যাচ্ছে। হাওড়া-গুয়াহাটি বন্দেভারত স্লিপার ট্রেন উদ্বোধনের সময়েও প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, মা কালীর ভূমির সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে মা কামাখ্যার ভূমি। বার বার প্রধানমন্ত্রী বাংলাকে মা কালীর মাটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যাকে বাঙালি আবেগ স্পর্শের রাজনৈতিক কৌশল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।