
Petrol Reserve: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা যত তীব্র হচ্ছে, ততই কপালে ভাঁজ বাড়ছে ভারতের অর্থ-মন্ত্রকের। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ যাতে ভারতের রান্নাঘর কিংবা পেট্রোল পাম্পে না পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার তড়িঘড়ি উচ্চপর্যায়ের ক্যাবিনেট বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। খনিজ তেল এবং রান্নার গ্যাসের (LPG) নিরবচ্ছিন্ন জোগান বজায় রাখাই ছিল এই বৈঠকের মূল নির্যাস। বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম চড়চড়িয়ে বাড়লেও, দেশের অভ্যন্তরে তার প্রভাব রুখতে একগুচ্ছ রণকৌশল তৈরি করেছে কেন্দ্র।
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগর বা পারস্য উপসাগরের বাণিজ্য পথ অবরুদ্ধ হলেও যেন ভারতের জ্বালানি ভাণ্ডারে টান না পড়ে। বিকল্প রুট এবং অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে জোগান স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এলপিজি সিলিন্ডারের অভাব নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে অভিযোগ আসছিল, তা মেটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে বলা হয়েছে।
ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা কৌশলগত তেল ভাণ্ডারের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কতদিন এই মজুত তেল দিয়ে দেশ চালানো সম্ভব, তা নিয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে কোনো আতঙ্ক তৈরি না হয় এবং কালোবাজারি রুখতে জেলা স্তরে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ক্যাবিনেট সচিবালয় থেকে।
ইরান যুদ্ধের আবহে খনিজ তেলের আমদানিতে কোনো বিঘ্ন ঘটলে রাশিয়া বা অন্যান্য লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে বাড়তি তেল আমদানির পথ খোলা রাখা হচ্ছে। ক্যাবিনেট বৈঠকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়। মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা যাই হোক না কেন, দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে যাতে বাড়তি টান না পড়ে, সেটাই সরকারের অগ্রাধিকার।