
নতুন সূচনার সাক্ষী বাংলাদেশ। দীর্ঘ দেড় বছর পর বাংলাদেশের জনগণ পাচ্ছে নির্বাচিত সরকার। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। প্রত্যাশা মতোই নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন খালেদাপুত্র তারেক রহমানই। আগামী মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যেয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন তিনি। পাশাপাশি, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও ওই দিনই শপথ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না বাংলাদেশ। এটিকে শুধুমাত্র শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হিসেবে না দেখে কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবেও দেখছে প্রতিবেশী দেশটি। আর তাই ১৩টি দেশের সরকারের প্রধানদের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এই আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে।
কোন কোন দেশের সরকারের প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে?
আমন্ত্রিত দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত, চিন, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মলদ্বীপ এবং ভুটান। দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিকে এই আমন্ত্রণ পাঠানো এই অনুষ্ঠানটিকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে বলে মত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলের।
উল্লেখ্য বিষয় হল, ঢাকায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হিসেবেই দেখা হচ্ছে না, বরং নতুন সরকারের পক্ষ থেকে একটি আন্তর্জাতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত ও চিন এবং পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরফে আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার একটি চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারেকের সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ?
নতুন মন্ত্রিসভার সঙ্গে শপথ নেওয়া তারেকের জন্য প্রাথমিক ভাবে অত্যন্ত আনন্দদায়ক হলেও,তাঁর সামনে কিন্তু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশীয় রাজনীতি স্থিতিশীল করা, অর্থনীতিকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জগুলি তারেককে নিতে হবে।