Advertisement

PM Modi Talk To Iran President: 'ভারতীয়দের সুরক্ষা সবার আগে', ইরানের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বললেন PM মোদী

PM Modi Talk To Iran President: প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন ইরানের প্রেসিডেন্টকে জানান, ভারত বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে। যুদ্ধ কোনো সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হতে পারে না। লোহিত সাগর থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত যে বাণিজ্যিক করিডোর রয়েছে, তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 (Photo: PTI) (Photo: PTI)
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 13 Mar 2026,
  • अपडेटेड 1:11 AM IST

PM Modi Talk To Iran President: উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের দামামা যত তীব্র হচ্ছে, ততই কপালে ভাঁজ বাড়ছে ভারতের বিদেশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, এই ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখা কেবল ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতির জন্য জরুরি। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে উদ্ভূত জ্বালানি সংকট ও সেখানে কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তাকেই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন ইরানের প্রেসিডেন্টকে জানান, ভারত বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে। যুদ্ধ কোনো সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হতে পারে না। লোহিত সাগর থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত যে বাণিজ্যিক করিডোর রয়েছে, তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ইরান ও ইজরায়েলের এই সংঘাত যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে ইরানকে সংযম দেখানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

ইরান ও সংলগ্ন দেশগুলোতে বর্তমানে কয়েক লক্ষ ভারতীয় শ্রমিক ও পেশাদার কর্মরত। যুদ্ধের আঁচ সরাসরি তাঁদের ওপর পড়লে তা ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী পেজেশকিয়ানকে অনুরোধ করেছেন, যে কোনো পরিস্থিতিতেই যেন ভারতীয়দের সুরক্ষায় কোনো খামতি না থাকে। প্রয়োজনে তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ইরান সরকার যাতে পূর্ণ সহযোগিতা করে, সেই বিষয়টিও এদিনের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

ভারতের খনিজ তেল ও রান্নার গ্যাসের (LPG) আমদানির একটি বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ইরান যুদ্ধের জেরে জোগান ব্যাহত হলে দেশে অগ্নিমূল্য হতে পারে জ্বালানি। এই সংকট রুখতে বিকল্প পথে জোগান বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলো যাতে বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে সওয়াল করেন মোদী। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর সরাসরি ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে এই কথা বলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Advertisement

ভারত বরাবরই ইরান ও ইজরায়েল, দুই দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে। একদিকে যেমন ইজরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে, তেমনই চাবাহার বন্দর ও তেলের জন্য ইরানের ওপর ভারত নির্ভরশীল। এই দুই বিপরীতমুখী স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সাউথ ব্লকের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। মোদী এদিন সেই ভারসাম্য রক্ষার বার্তাই দিয়েছেন।

আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চাবাহার বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আলোচনা হয়। যুদ্ধের কারণে এই প্রকল্পের কাজ যাতে থমকে না যায়, সেদিকে নজর দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ, এই বন্দরটি কেবল ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ নয়, বরং আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় ভারতের প্রবেশের অন্যতম প্রধান করিডোর।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এর আগেও ইউক্রেন যুদ্ধে ‘এটি যুদ্ধের যুগ নয়’ বলে বার্তা দিয়েছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর এদিনের আলোচনা আবারও প্রমাণ করল যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারত সক্রিয়ভাবে ময়দানে নেমেছে।

টেলিফোনে আলোচনার শেষে দুই নেতাই যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতির দিকে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকদেরও সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপ তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের পারদ কতটা কমাতে পারে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement