
মকর সংক্রান্তির দিন ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটবে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে। এই প্রথমবার অফিস বদল হতে চলেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর। মকর সংক্রান্তির শুভ তিথিকেই বাছা হয়েছে এই ঠিকানা বদলের দিন হিসেবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নতুন অফিস হতে চলেছে 'সেবা তীর্থ'।
PMO-র ঠিকানা বদলে যাচ্ছে
ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর অফিস বা দফতরকে সংক্ষেপে PMO বলা হয়। এবার সেই PMO-র ঠিকানা বদলে যাচ্ছে। সেবা তীর্থ নামে নতুন বিল্ডিংয়ে শিফট হচ্ছে অফিস। সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতাতেই এই অফিস তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্পে নতুন সংসদ ভবনও রয়েছে।
নরেন্দ্র মোদীর নতুন অফিস প্রায় প্রস্তুত
আগামী ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নতুন অফিস প্রায় প্রস্তুত। খুব শিগগিরই তিনি নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হতে পারেন। জানা যাচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই তিনি সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত নতুন কমপ্লেক্স ‘সেবা তীর্থ’-তে স্থানান্তরিত হবেন। এই কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় (PMO), ক্যাবিনেট সচিবালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পরিষদের সচিবালয় (NSCS) — এই তিনটির জন্য আলাদা আলাদা ভবন তৈরি করা হয়েছে।
১৯৪৭ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ছিল সাউথ ব্লকে
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় যে ভবনে স্থানান্তরিত হবে, তার নাম ‘সেবা তীর্থ-১’। এখানে আধুনিক অফিস স্পেসের পাশাপাশি বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ সভাকক্ষ রয়েছে। পুরো ভবনের নকশা তৈরি করা হয়েছে ‘সেবা’ ভাবনাকে সামনে রেখে। এই স্থানান্তরের মাধ্যমে একটি যুগের অবসান ঘটবে, কারণ ১৯৪৭ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ছিল সাউথ ব্লকে। এদিকে, ‘সেবা তীর্থ-২’ ভবনে ইতিমধ্যেই ক্যাবিনেট সচিবালয় স্থানান্তরিত হয়েছে। তারা গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সেখানে কাজ শুরু করেছে। আর ‘সেবা তীর্থ-৩’ ভবনে থাকবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দফতর।
খরচ হয়েছে প্রায় ১,১৮৯ কোটি টাকা
সাউথ ব্লক ও নর্থ ব্লক খালি হয়ে গেলে সেখানে তৈরি হবে একটি বিশাল জনসাধারণের জাদুঘর, যার নাম হবে ‘যুগে যুগীন ভারত সংগ্রহালয়’। এই জাদুঘর তৈরির জন্য ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ফ্রান্সের মিউজিয়াম ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। পুরো সেবা তীর্থ প্রাঙ্গণ (যাকে এক্সিকিউটিভ এনক্লেভও বলা হয়) নির্মাণ করছে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো সংস্থা। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১,১৮৯ কোটি টাকা এবং এর আয়তন ২,২৬,২০৩ বর্গফুট।
এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি নতুন সরকারি বাসভবন নির্মীয়মান, যার অস্থায়ী নাম ‘এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ পার্ট-২’। এই স্থানান্তর প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঔপনিবেশিক ছাপ মুছে ফেলার ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর আগেও তাঁর সরকার দিল্লির ঐতিহাসিক রাজপথের নাম পরিবর্তন করে ‘কর্তব্যপথ’ করেছে। সরকারি প্রশাসনকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বিভিন্ন মন্ত্রকের অফিস এক জায়গায় আনতে কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট (CCS) ভবন তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি ভবন ‘কর্তব্য ভবন’।