
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করে বিস্ফোরক লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, এপস্টিন মামলার ফাইল এবং ইমেলে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর মন্ত্রী এবং ঘনিষ্ঠদের নাম উঠে এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন একজন অপরাধীর সঙ্গে নাম জড়ানো 'লজ্জার' বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ পোস্ট করা ওই ভিডিও বার্তায় রাহুল বলেন, 'মোদীজি, আপনি লজ্জার কথা বলেন? আমি আপনাকে বলি লজ্জা কাকে বলে। এপস্টিন ফাইলসে আপনার, আপনার মন্ত্রী এবং আপনার বন্ধুদের নাম থাকা; এমন ঘৃণ্য অপরাধীর সঙ্গে নাম জড়ানোই লজ্জার বিষয়।' তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
‘প্রধানমন্ত্রীর চোখে ভয়’
ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বিজেপি এবং আরএসএস কর্মীদের উদ্দেশেও বার্তা দেন। তিনি বলেন, 'বিজেপি ও আরএসএস কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর চোখের দিকে তাকালেই, সেখানে ভয় দেখতে পাবেন।' তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত হননি এবং তা নিয়ে বিভিন্ন কারণ দেখানো হয়েছে।
রাহুলের কথায়, 'গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার মৌলিক অধিকার।' তিনি বলেন, 'অহিংসা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ এই দেশের ভিত্তি। মহাত্মা গান্ধী এবং ভগৎ সিং আমাদের এই পথ দেখিয়েছেন। তাহলে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে ভয় পাওয়ার কারণ কী?'
আমেরিকার সঙ্গে ট্রেড ডিল নিয়েও প্রশ্ন
শুধু এপস্টিন ইস্যুই নয়, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, এই চুক্তিতে ভারতের কোনও লাভ হয়নি। বরং দেশের স্বার্থের সঙ্গে আপস করা হয়েছে।
রাহুলের দাবি, এই ট্রেড ডিলের ফলে দেশের কৃষক, টেক্সটাইল শিল্প এবং দেশের ডেটা নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের চুক্তি দেশের অর্থনীতি এবং স্বনির্ভরতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আদানি ইস্যুতেও কেন্দ্রকে নিশানা
শিল্পপতি গৌতম আদানির সঙ্গে যুক্ত বিতর্ক নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, এটি শুধু একজন ব্যবসায়ীর বিষয় নয়, বরং দেশের আর্থিক কাঠামো এবং সরকারের নীতির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
রাহুলের অভিযোগ, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির তরফে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইস্যু আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।