Advertisement

Bombay High Court: সহবাস করে সন্তানের জন্ম আসলে বিয়েই, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

বারবার সহবাস এবং সেই সম্পর্ক থেকে সন্তানের জন্ম হলে, তা পারিবারিক হিংসা থেকে নারী সুরক্ষা আইন (Domestic Violence Act)-এর আওতায় ‘বিবাহের প্রকৃতির সম্পর্ক’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল বম্বে হাইকোর্ট। এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর সঙ্গীর দায়ের করা মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করে এই মন্তব্য করেছে আদালত।

Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 24 Jan 2026,
  • अपडेटेड 12:32 PM IST
  • বারবার সহবাস এবং সেই সম্পর্ক থেকে সন্তানের জন্ম হলে, তা পারিবারিক হিংসা থেকে নারী সুরক্ষা আইন (Domestic Violence Act)-এর আওতায় ‘বিবাহের প্রকৃতির সম্পর্ক’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল বম্বে হাইকোর্ট।
  • এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর সঙ্গীর দায়ের করা মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করে এই মন্তব্য করেছে আদালত।

বারবার সহবাস এবং সেই সম্পর্ক থেকে সন্তানের জন্ম হলে, তা পারিবারিক হিংসা থেকে নারী সুরক্ষা আইন (Domestic Violence Act)-এর আওতায় ‘বিবাহের প্রকৃতির সম্পর্ক’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল বম্বে হাইকোর্ট। এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর সঙ্গীর দায়ের করা মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করে এই মন্তব্য করেছে আদালত।

চামোর্শির প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলাটি বাতিল করার পাশাপাশি ২০২২ ও ২০২৩ সালে সঙ্গী এবং তাঁদের নাবালিকা কন্যাকে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশও খারিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার। তবে বিচারপতি এম এম নেরলিকার সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। যদিও অভিযুক্তের বাবা-মা ও স্ত্রীকে মামলার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারিণী ওই মহিলা আদালতে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের মধ্যেই প্রথমে তিনি গর্ভবতী হন এবং অভিযুক্তের চাপে গর্ভপাত করাতে বাধ্য হন। পরে সম্পর্ক বজায় থাকাকালীনই তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন, যার বয়স বর্তমানে আট মাস। তাঁর অভিযোগ, ২০২২ সালে অভিযুক্ত তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে অন্য একজন মহিলাকে বিয়ে করেন। এর পরেই তিনি ৭ মে ২০২২ তারিখে ধর্ষণের অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের ধারায় এফআইআর দায়ের করেন।

অভিযুক্তের আইনজীবী হাইকোর্টে দাবি করেন, সপ্তাহান্তে একসঙ্গে সময় কাটানো বা বিচ্ছিন্ন শারীরিক সম্পর্ক কখনওই পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে পড়ে না। তাঁর মতে, এই মামলা প্রতিশোধমূলক এবং তাই তা বাতিল করা উচিত।

অন্যদিকে, অভিযোগকারিণীর আইনজীবী জানান, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ইতিমধ্যেই মহিলাকে মাসে ৫ হাজার টাকা এবং শিশুটিকে ২ হাজার টাকা অন্তর্বর্তী ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। চূড়ান্ত শুনানি ও প্রমাণ গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত এই মামলা বাতিল করা অনুচিত বলেও তিনি যুক্তি দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, নারীর সুরক্ষার স্বার্থে পারিবারিক হিংসা আইনে ‘পারিবারিক সম্পর্ক’-এর সংজ্ঞার উদার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

Advertisement

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায়, পুরুষের পরবর্তী বিয়ে হওয়ার কারণে নারীকে পারিবারিক হিংসা আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের উল্লেখ করে আদালত বলে, সম্পর্কের সময়কাল, যৌন সম্পর্কের ধারাবাহিকতা এবং সন্তানের জন্ম, এই সবকটি বিষয়ই ‘বিবাহের মতো সম্পর্ক’-এর শক্তিশালী ইঙ্গিত।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘদিনের সহবাস, যৌন সম্পর্ক, জোরপূর্বক গর্ভপাত এবং পরে কন্যা সন্তানের জন্ম, এই সমস্ত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে ‘গার্হস্থ্য সম্পর্ক’ ও ‘বিবাহের প্রকৃতির সম্পর্ক’-এর সংজ্ঞার মধ্যেই পড়ে, যা পারিবারিক হিংসা আইনের ধারা ২(এফ)-এর আওতাভুক্ত।

রায়ে আদালত জানায়, 'প্রাথমিকভাবে ধরে নেওয়া যায় যে আবেদনকারী ও তাঁর সঙ্গীর মধ্যে বিবাহের প্রকৃতির সম্পর্ক ছিল, কারণ তাঁরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে ছিলেন এবং সেই সম্পর্কের ফলেই একটি সন্তানের জন্ম হয়েছে। এই পর্যায়ে এসে এমন অভিযোগ বাতিল করতে আদালত আগ্রহী নয়।'
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement