
রাজধানী দিল্লির কর্তব্য পথে আজ পালিত হবে ৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিসব। ২৬ জানুয়ারি, সোমবার সারা পৃথিবীর কাছে ভারতের গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক শক্তির বার্তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের সামরিক শক্তিরও হবে প্রদর্শন।
এ বারের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। কারণ, ট্রাম্পের শুল্কের মধ্যেই ইইউ-এর সঙ্গে একটা বড় বাণিজ্য চুক্তি করতে চলেছে। আর এমন পরিস্থিতিতেই এখানে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। তাঁদেরকে সামনে রেখে ভারতের নতজানু না হওয়ার ছবি তুলে ধরা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রজাতন্ত্র দিবসের থিম কী?
এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের সঙ্গে বাংলার যোগ প্রবল। এবার বন্দে মাতরমের ১৫০ পূর্তিই মূল থিম। এই গান কীভাবে রাষ্ট্রপ্রেম প্রদশর্নের অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা হবে।
১০ হাজার বিশেষ অতিথি উপস্থিত হবেন
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন ১০০০০ বিশেষ অতিথি। তাঁদের মধ্যে থাকবেন কৃষক থেকে শুরু করে বিজ্ঞানী, খেলোয়াড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষেরা।
সিকিউরিটি বেড়েছে
আজ প্রজাতন্ত্র দিবস। আর এমন পরিস্থিতিতে দিল্লির নিরাপত্তা অনেক শক্তিশালী করে ফেলা হয়েছে। প্রায় ১০০০০ পুলিশকর্মী আজকের এই অনুষ্ঠানে সুরক্ষার দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি এআই বেসড সিসিটিভি ক্যামেরাও লাগান হয়েছে। এই সবের মাধ্যমেই চলবে নজরদারি।
আর এই বিষয়ের লাইভ আপডেট পেতে চোখ রাখুন bangla.aajtak.in-এ।
কার্তব্য পথে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফ্লাই-পাস্ট। 'ভিক' ফর্মেশনে উড়ন্ত একটি P-8i বিমান এবং দু'টি Su-30 বিমানের সমন্বয়ে গঠিত বরুণ ফর্মেশনের দৃশ্য নজর কাড়ল।
সাধারণতন্ত্র দিবসে কর্তব্য পথে অন্য রাজ্যের সঙ্গে সামিল বাংলার ট্যাবলোও। বাংলার ট্যাবলেতে জায়গা পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাতঙ্গিনী হাজরার মতো ব্যক্তিত্বরা। এই ট্যাবেলোতে তুলে ধরা হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদানের কথা।
কর্তব্য পথে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বিশেষ শোভাযাত্রা করল ভারতীয় বায়ু সেনাও। কর্তব্য পথে বায়ু সেনার সদস্যরা যখন কুচকাওয়াজ করেন তখন আকাশে গর্জন শুরু করে রাফাল যুদ্ধবিমান। যা ভারতীয় বিমান বাহিনীর শক্তি এবং দক্ষতা ফুটিয়ে তুলেছে।
ভারতের সুপারসনিক মিসাইল ব্রহ্মোস দেখানো হল কর্তব্যপথে। ভারতের সূর্যাস্ত্র।
৬১তম অশ্বারোহী বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন অহন কুমার। ৬১তম অশ্বারোহী বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্বের একমাত্র সক্রিয় অশ্বারোহী রেজিমেন্ট যা বীরত্ব, ঘোড়সওয়ারি এবং সাহসিকতার শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
ডিআরডিও (DRDO) বর্তমানে একটি অত্যাধুনিক লং-রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ মিসাইল (LR-AShM) বানাচ্ছে। এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রজেক্ট ডিরেক্টর এ প্রসাদ গৌড়। ভারতীয় নৌবাহিনীর কোস্টাল ব্যাটারির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই এই অস্ত্রব্যবস্থার নকশা তৈরি করা হয়েছে। LR-AShM একটি হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল, যা স্থির ও চলমান, দু’ধরনের লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হানতে সক্ষম। সর্বোচ্চ ১৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইল বিভিন্ন ধরনের পে-লোড বহনে সক্ষম। এটি কোয়াসি-ব্যালিস্টিক পথে চলাচল করে এবং উৎক্ষেপণের পর গতি পৌঁছয় মাখ ১০-এ, গড়ে মাখ ৫ গতিতে একাধিক ‘স্কিপ’ বা লাফ দিয়ে এগিয়ে যায়। নিম্ন উচ্চতায় অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ও উচ্চ মাত্রার ম্যানুভারেবিলিটির কারণে এই মিসাইলকে শত্রুপক্ষের স্থলভিত্তিক বা জাহাজভিত্তিক রাডারে ধরা প্রায় অসম্ভব। LR-AShM-এ ব্যবহৃত হয়েছে দুই ধাপের সলিড প্রপালশন রকেট মোটর সিস্টেম।
দিল্লির কর্তব্য পথে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত সূর্যস্ত্র ইউনিভার্সাল রকেট লঞ্চার সিস্টেম (URLS) এবং ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল সিস্টেম।
প্রজাতন্ত্র দিবসে কর্তব্যপথে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে ভারত। সামরিক দক্ষতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সূর্যাস্ত্র ও ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হল। এই ব্রহ্মোস মিসাইল শত্রুপক্ষের বুকে কাঁপুনি ধরানোর জন্য যথেষ্ট।
ভারতের মহাকাশচারী IAF গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লাকে সাহসিকতায় দেশের সর্বোচ্চ সম্মান অশোক চক্র প্রদান করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির কর্তব্যপথে কুচকাওয়াজে শুভাংশুকে এই সম্মান প্রদান করা হল।
সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন দের লায়েন। কর্তব্য পথে তাঁকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও।
দিল্লির কর্তব্যপথে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে ভারতের শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করলেন তিনি। সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে, চিনার কর্পস তার সমস্ত সৈনিক, প্রাক্তন সৈনিক, Dসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মী, তাঁদের পরিবার এবং কাশ্মীরের জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে।
৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গণতন্ত্রের এক স্মরণীয় উৎসবের সাক্ষী থাকল ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চল। দশকের পর দশক নকশালদের প্রভাবের কারণে যেখানে জাতীয় উৎসব পালন করা যায়নি, সেই বস্তারের বিজাপুর, নারায়ণপুর ও সুকমা জেলার ৪৭টি গ্রামে ২৬ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো উদযাপিত হল প্রজাতন্ত্র দিবস। এই ঘটনা বস্তারে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত দু’বছরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বিত কৌশল, নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে ৫৯টি নতুন নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপনের ফলে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তার স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। গত বছর ৫৩টি গ্রামে প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হয়েছিল; চলতি বছরে আরও ৪৭টি গ্রাম সেই গণতান্ত্রিক ধারায় যুক্ত হল।
গোটা দেশ যখন প্রজাতন্ত্র দিবসের আনন্দে মেতেছে, তখন কাশ্মীর সীমান্তে LoC-তে অতন্দ্র প্রহরী ভারতীয় সেনা। শত্রুপক্ষ কোনও ভাবে যাতে আক্রমণ করতে না পারে, তার জন্য আজ বিশেষ নজরদারি চলছে সীমান্তে। কাশ্মীরে পুঞ্চ সেক্টরে সীমান্তে উড়ছে ড্রোন।
#WATCH | Poonch, J&K: Indian Army troops continue to remain vigilant and guard the borders of the country across the LoC, as the nation celebrates the 77th #RepublicDay. pic.twitter.com/u4obPwNV8J
— ANI (@ANI) January 26, 2026৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে গোটা দেশ যখন গর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, তখন সেই আবেগে সমানভাবে শামিল থাকবে পশ্চিমবঙ্গও। ‘বন্দে মাতরম’-এর দেড়শো বছরের গৌরবকে সামনে রেখে কার্তব্য পথে যে ঐতিহ্য, শক্তি আর অগ্রগতির অনন্য মেলবন্ধন দেখা যাবে, তার সঙ্গে বাঙালির দেশপ্রেমের যোগ বহু পুরনো। আজ দিল্লির কর্তব্য পথে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ ট্যাবলোতে দেশ তথা বিশ্বকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালির অবদান। স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার অবদান যেমন অনস্বীকার্য, তেমনই আজকের ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যেও বাংলার সুর, সাহিত্য আর শিল্প এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে ভারতীয় সেনার আধুনিক যুদ্ধক্ষমতা, স্বদেশি প্রযুক্তি আর মানুষের অংশগ্রহণ যেমন দেশের ভবিষ্যতের কথা বলবে, তেমনই তা মনে করিয়ে দেবে ঐতিহ্য আর আত্মত্যাগের ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই দিনে শুধু দর্শক নয়, এই উদযাপনের আবেগের শরিক। তেরঙ্গার তলায় দাঁড়িয়ে বাংলাও বলবে, বৈচিত্র্যের মধ্যেই ভারতের ঐক্য, আর সেই ঐক্যের শক্তিতেই আগামীর পথচলা।
প্রজাতন্ত্র দিসবে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। প্রধানমন্ত্রী এক্স-এ লেখেন, 'সকল দেশবাসীকে গণতন্ত্র দিবসের অনেক অনেক শুভেচ্ছে।' পাশাপাশি এই পোস্টে তিনি ভারতের পরম্পরা, মর্যাদা নিয়ে কথা বলেন। পাশাপাশি বিকশিত ভারতের বার্তাও দেন।
সকাল ৯:৩০ নাগাদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শহিদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলে খবর। এছাড়া সকাল ৯:৪৫ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। আগে হবে পতাকা উত্তোলন। তারপর কুচকাওয়াজ।
প্রজাতন্ত্র দিবসে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। তাই তাঁদের পক্ষ থেকে একাধিক স্তরে সুরক্ষা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। প্রথমত, এ দিনের অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন ১০ হাজারের বেশি পুলিশকর্মী। পাশাপাশি সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি চালাবে পুলিশ। এছাড়া নানা প্রোটোকলও তৈরি করা হয়েছে।
আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ১০ হাজারের বেশি বিশেষ অতিথি। এই তালিকায় দেশের সেরা সব বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিকেরা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি অতিথি তালিকায় বিশেষ স্থান পাবেন মহিলারা বলেই জানা যাচ্ছে