
বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্য়াচার বাড়ছে। তা নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। এবার মুখ খুললেন RSS প্রধান মোহন ভাগবত। বাংলাদেশের হিন্দুদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন তিনি।
মুম্বইয়ের ওরলির নেহেরু সেন্টারে RSS এর শতবর্ষ উপলক্ষে 'সংঘের যাত্রার ১০০ বছর: নতুন দিগন্ত' নামে অনুষ্ঠান হচ্ছে। সেখানেই ভাষণ দিতে গিয়ে বাংলাদেশের হিন্দুদের অবস্থা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে প্রায় ১.২৫ কোটি হিন্দু আছে। যদি তারা সেখানে থেকে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে গোটাস বিশ্বের হিন্দুরা তাদের পাশে দাঁড়াবে, সাহায্য করবে।'
ভারতবিরোধী বাংলাদেশের ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে সেখানে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বেড়েছে। গণপিটুনির শিকার হয়েছেন একাধিক সংখ্য়ালঘু যুবক। অগাস্ট আন্দোলনের পর বহু হিন্দুর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, খুনও হয়েছিলেন অনেকে। সব দেশেশুনেও নীরব ছিল অন্তর্বতীকালীন প্রশাসন। তা নিয়ে সরবও হয়েছিল ভারত। একাধিকবার বিদেশমন্ত্রকের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছিল ইউনূস সরকারকে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতেও পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করেন ভাগবত। তাঁর অভিযোগ, এর আগের সরকারগুলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ অভিবাসনকে গুরুত্ব দেয়নি। সেজন্য অপরিমিত হারে জনসংখ্য়ার হার বেড়েছে।
RSS-এর আর্থিক উৎস নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। সেই বিষয়েও উত্তর দেন সংঘ প্রধান। তাঁর দাবি কোনও শিল্পপতি বা পুঁজিপতির কাছে হাত পাতে না তাঁদের প্রতিষ্ঠান। 'সাধারণ মানুষ RSS-এর অর্থের উৎস বা তহবিল সম্পর্কে জানতে চায়। আমরা কর্পোরেটের অর্থের উপর নির্ভর করি না। কর্মীদের থেকে তহবিল সংগ্রহ করি। কোথাও গেলে আমরা খাবার কেনার বদলে টিফিন চেয়ে নিই। কর্মীদের বাড়িতে থাকি, হোটেলে নয়।' বলেন তিনি।
সংঘের যে কোনও বর্ণের মানুষ প্রধান হতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, 'RSS বৈষম্য করে না। যে কোনও বর্ণের যে কেউ প্রধান হতে পারে। তপশিলি জামি বা উপজাতি হওয়ার কারণে কেউ পিছিয়ে তাকবে না। আমরা সকল বর্ণের জন্য কাজ করি। যদিও আরএসএস প্রাথমিকভাবে ব্রাহ্মণদের দিয়ে শুরু করেছিল।'
মুসলিম সমাজে সংঘের প্রচার ও প্রসার নিয়ে তিনি বলেন, 'মুসলিম এলাকায় কাজের চ্যালেঞ্জ আছে। সেখানে কাজ করতে গেলে সমস্যায় পড়তে হয়। হয়তো গালিগালাজ করে অনেকে। কিন্তু আমরা সাড়া দিই না। এইভাবে সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া যায়।'