
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। স্পষ্ট ভাবে সে কথাই জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, 'ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করার পর থেকে সে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সম্পর্ক অবগত। ভারত সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ভেনেজুয়েলার জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে।'
মঙ্গলবার লুক্সেমবার্গে ভাষণ দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বর্তমান এই সংঙ্কটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সকল পক্ষকে বসে ভেনেজুয়ালেরা জনগণের কল্যাণের জন্য একটি অবস্থানে পৌঁছনোর আর্জিও জানিয়েছেন।
এস জয়শঙ্করের বক্তব্য, 'ভারত ইতিমধ্যেই একটি বিবৃতি দিয়েছে। স্পষ্টতই যা ঘটেছে, তা নিয়ে সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমরা উদ্বিগ্ন। এই সঙ্কটের সঙ্গে জড়িত সমস্ত পক্ষকে বসে এমন একটি অবস্থানে আসার জন্য অনুরোধ করব যা ভেনেজুয়েলার জনগণের মঙ্গল এবং সুরক্ষার স্বার্থে সঠিক হবে। কারণ দিনের শেষে এটিই আমাদের সবচেয়ে ভাবাচ্ছে।'
লুক্সেমবার্গের ওই অনুষ্ঠানে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ বছরের ভেনেজুয়ালার সম্পর্কের কথাও উত্থাপন করেন বিদেশমন্ত্রী। জয়শঙ্কর বলেন, 'আমরা ভেনেজুয়ালাকে এমন একটি দেশ হিসেবে দেখতে চাই, যে দেশের সঙ্গে ভারতের বহু বহু বছর ধরে সুসম্পর্ক রয়েছে। যা-ই হয়ে যাক না কেন, দেশের জনগণের যেন কোনও ক্ষতি না হয়।'
উল্লেখ্য, গত শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেন্সকে কারাকাস থেকেো অপহরণ করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই বর্তমানে বন্দি রয়েছেন তাঁরা। গ্রেফতার করে ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এরপরই ভেনেজুয়েলার উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। ভেনেজুয়েলার জনগণের নিরাপত্তা এবং কল্যাণের জন্য ভারতের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানানো হয়। বলা হয়, 'ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলী গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। আমরা পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছি। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ভাবে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি। যাতে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়। কারাকাসে ভারতীয় দূতাবাস ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদান করা হবে।'