
পোষ্য কুকুরকে হাঁটানোর জন্য স্টেডিয়াম খালি করিয়ে দিয়েছিলেন, এমন অভিযোগে এক সময় তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছিলেন আইএএস অফিসার সঞ্জীব খিরওয়ার। যদিও সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন তিনি। সেই বিতর্কিত অধ্যায় পেরিয়েই এ বার তাঁকেই দিল্লি পুরসভার নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হল।
কী ঘটেছিল ২০২২ সালে?
ঘটনাটি ২০২২ সালের মে মাসের। সে সময় সঞ্জীব খিরওয়ার ছিলেন দিল্লি সরকারের রাজস্ব দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু দুগ্গারও একজন আইএএস অফিসার। তখন দিল্লিতে আম আদমি পার্টির সরকার, মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন অরবিন্দ কেজরীওয়াল।
অভিযোগ ওঠে, আমলা দম্পতি তাঁদের পোষ্য সারমেয়কে নিয়ে সান্ধ্যভ্রমণের জন্য দিল্লির ত্যাগরাজ স্টেডিয়াম বেছে নেন। সেই সময় নাকি স্টেডিয়াম খালি করিয়ে দেওয়া হয় এবং ক্রীড়াবিদ ও প্রশিক্ষকদের বেরিয়ে যেতে বলা হয়, যাতে আমলা দম্পতি নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারেন। এই অভিযোগ সামনে আসতেই দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়।
সরকারের তৎপরতা ও কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ
বিতর্ক ছড়িয়ে পড়তেই দ্রুত পদক্ষেপ করে দিল্লি সরকার। জানিয়ে দেওয়া হয়, দিল্লির সব স্টেডিয়াম রাত ১০টা পর্যন্ত খেলোয়াড়দের জন্য খোলা থাকবে। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। ওই আইএএস দম্পতিকে দিল্লি থেকে সরিয়ে দেশের দুই প্রান্তে বদলি করা হয়। সঞ্জীব খিরওয়ারকে বদলি করা হয় লাদাখে। তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু দুগ্গারকে পাঠানো হয় অরুণাচল প্রদেশে
অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন খিরওয়ার
তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন সঞ্জীব খিরওয়ার। তাঁর দাবি ছিল, কোনও ক্রীড়াবিদকে স্টেডিয়াম ছাড়তে বলা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও তিনি স্বীকার করেছিলেন, মাঝে মাঝে পোষ্য কুকুরকে হাঁটাতে ত্যাগরাজ স্টেডিয়ামে যেতেন।
বিতর্ক পেরিয়ে নতুন দায়িত্ব
সব বিতর্কের পর্ব পেরিয়ে এ বার সেই সঞ্জীব খিরওয়ারকেই দিল্লি পুরসভার কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হল। এত দিন যিনি এই পদে ছিলেন, সেই অশ্বিনী কুমারকে বদলি করে পাঠানো হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে। বিতর্কিত অতীত সত্ত্বেও খিরওয়ারের এই নতুন নিয়োগ প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।